প্রিটার্ম বার্থ রোধে এবার সাহায্য করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগে হওয়া প্রসবকে প্রিটার্ম বার্থ বা সময়ের আগে জন্ম বলা হয়। আমাদের দেশে প্রিটার্ম বার্থের মতো গভীর এক স্বাস্থ্যঝুঁকির বিরুদ্ধে এবার নতুন লড়াই শুরু হচ্ছে প্রযুক্তির হাত ধরে।
'GARBH-INi'-এর উদ্যোগে ১২,০০০ গর্ভবতী মহিলাকে নিয়ে চলছে গবেষণা। যার লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে আগেভাগেই প্রিটার্ম বার্থের ঝুঁকি চিহ্নিত করা। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের কথায়, এই উদ্যোগ শুধু একটি গবেষণা প্রকল্প নয়, ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা।
ভারতীয় নারীদের শারীরিক গঠন, পরিবেশ ও জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হচ্ছে AI-ভিত্তিক প্রেগন্যান্সি ডেটিং মডেল। পাশাপাশি মাইক্রোবায়োমের সূক্ষ্ম পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে প্রিটার্ম বার্থের পূর্বাভাস, দ্রুত রোগ নির্ণয়ের প্রযুক্তি এবং জেনেটিক ঝুঁকি নির্ধারণ, সবই জানাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
খুলছে চিকিৎসার নতুন দিগন্ত। ছবি: সংগৃহীত
এই প্রচেষ্টার গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ প্রিটার্ম বার্থ এখনও নবজাতকের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। শুধু জন্মের সময় নয়, এর দীর্ঘ ছায়া পড়ে ভবিষ্যৎ জীবনেও, শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই সময়ের আগেই সতর্ক হতে পারা মানে এক নতুন জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
GARBH-INi প্রকল্প ইতিমধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রেগন্যান্সি কোহর্টে পরিণত হয়েছে। প্রেগন্যান্সি কোহর্ট হল এক ধরনের গবেষণা পদ্ধতি, যেখানে গর্ভবতী মহিলাদের একটি দলকে গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে প্রসব এবং পরবর্তী সময় পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
GARBH-INi প্রকল্পে প্রায় ১২,০০০ মহিলার তথ্যের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে বিশাল একটি বায়োরিপোজিটরি, যেখানে ১৬ লক্ষেরও বেশি বায়োস্যাম্পল এবং ১০ লক্ষের বেশি আল্ট্রাসাউন্ড ইমেজ সংরক্ষিত রয়েছে। এই বিপুল তথ্যভাণ্ডার ভবিষ্যতের গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
ঝুঁকির কথা আগে জানলে কমে জটিলতা। ছবি: সংগৃহীত
এই উদ্যোগের ফলে একেকজন মায়ের জন্য আলাদা ঝুঁকি বিশ্লেষণ সম্ভব হবে, যা চিকিৎসাকে আরও নির্ভুল ও কার্যকর করে তুলবে। এর পাশাপাশি ‘GARBH-INi-DRISHTI’ নামে একটি ডেটা-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম গবেষকদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। এতে তথ্যের সহজলভ্যতা যেমন বাড়বে, তেমনই আন্তর্জাতিক স্তরে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ভারতের অবদানও বাড়বে।
এই উদ্যোগে প্রযুক্তি খুলে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দরজা। বিশেষ করে মাইক্রোবায়োম-ভিত্তিক বায়োথেরাপিউটিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে। সরকারের মতে, এ ধরনের প্রকল্প বিজ্ঞানকে শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ রাখে না, বরং তাকে যুক্ত করে মানুষের জীবন, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নের সঙ্গে।
এক দশকে ভারতের বায়োইকোনমি যেখানে ১০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১৯৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, সেখানে এই উদ্যোগ যেন সেই অগ্রগতিরই স্বাভাবিক পরিণতি। নিজস্ব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের শক্তিতে ভর করে ভারত এখন শুধু সমস্যার মোকাবিলা করছে না, বরং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিশাও দেখাচ্ছে।
