চোখের কোণে ছোট্ট একটি হলুদ দাগ, দেখতে নিরীহ হলেও, এটি নিয়ে আমাদের মধ্যে রয়েছে এক ভুল ধারণা। অনেকেই ভাবেন, এই দাগ মানেই শরীরে কোলেস্টেরল বেড়েছে।
কিন্তু বাস্তবটা একটু ভিন্ন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই হলুদ দাগকে বলা হয় জ্যানথেলাসমা। এটি সাধারণত চোখের পাতার কোণে নরম, হলদেটে একটি স্তর বা প্লাক হিসেবে দেখা দেয়। আয়নার সমানে দাঁড়ালে দেখতে অস্বস্তিকর লাগলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি কোনও বিপদের লক্ষণ নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- জ্যানথেলাসমার সঙ্গে কোলেস্টেরলের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ, এই দাগ থাকলেই যে আপনার কোলেস্টেরল বেশি, এমনটা ধরে নেওয়া ভুল। অনেকের শরীরে কোলেস্টেরল স্বাভাবিক থাকলেও এই দাগ দেখা যায়, আবার কারও কোলেস্টেরল বেশি হলেও এটি নাও হতে পারে।
জ্যানথেলাসমা। ছবি: সংগৃহীত
তবে সতর্কতার খাতিরে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো যেতে পারে। কারণ শরীরের ভেতরকার অবস্থা জানাটা সবসময়ই জরুরি। কিন্তু শুধুমাত্র এই দাগ দেখে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
যাঁদের চোখের কোণে এই হলুদ দাগ খুব সামান্য, তাঁদের সাধারণত কিছুই করার প্রয়োজন হয় না। এটিকে সহজেই উপেক্ষা করা যায়। কেউ চাইলে চশমার আড়ালে ঢেকে রাখতে পারেন। তবে যদি এটি নিয়ে অস্বস্তি বোধ হয়, তাহলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। আধুনিক চিকিৎসায় লেজার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে খুব সহজেই এই দাগ সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলা সম্ভব।
এবার আসা যাক আসল সতর্কতার জায়গায়। জ্যানথেলাসমার মতো দেখতে হলেও, আরেকটি অবস্থা রয়েছে, যার নাম জ্যানথোমা, যা নিয়ে সতর্কতা জরুরি। এটি সাধারণত টেন্ডনের কাছে তৈরি হয় এবং ত্বকের নিচে কোলেস্টেরল বা চর্বি জমে পিণ্ডের মতো আকার নেয়।
জ্যানথোমা। ছবি: সংগৃহীত
জ্যানথোমার সঙ্গে কোলেস্টেরলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই এটি দেখা দিলে সেটি অবহেলা করা উচিত নয়। বরং এটি শরীরে কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ইঙ্গিত হতে পারে এবং এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সবশেষে একটাই কথা, চোখের কোণের হলুদ দাগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জ্যানথেলাসমা, যা সাধারণত নিরীহ। কিন্তু জ্যানথোমা হল সেই সংকেত, যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। ভুল ধারণা নয়, সঠিক তথ্যই আপনার স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
