shono
Advertisement

Breaking News

No Sweating During Heatwave

গরমে সবাই ঘামছে, আপনার শরীরে ঘামের ছিটেফোঁটাও নেই! কোন বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে শরীর?

প্রচণ্ড গরমে শরীর ঘাম বন্ধ করে দিলে সেটিকে কখনও হালকাভাবে নেবেন না। কারণ অনেক সময় এটাই হতে পারে হিটস্ট্রোকের প্রথম বড় সতর্কবার্তা।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 02:26 PM May 20, 2026Updated: 02:42 PM May 20, 2026

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে গোটা দেশ। বাইরে বেরোলেই হাঁসফাঁস দশা, শরীর ভিজে যাচ্ছে ঘামে। কিন্তু এই অসহ্য গরমের মধ্যেও যদি কারও ঘাম কম হয় বা একেবারেই না হয়, তাহলে সেটি মোটেও স্বাভাবিক নয় বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরমে ঘাম না হওয়া অনেক সময় শরীরের বিপজ্জনক অবস্থার ইঙ্গিত দিতে পারে।

Advertisement

ঘাম আমাদের শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে ঘামগ্রন্থি ত্বকের উপর জলীয় পদার্থ বের করে দেয়। সেই ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার সময় শরীর ঠান্ডা হয়। অর্থাৎ, ঘাম না হলে শরীরের কুলিং সিস্টেমও ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। আর সেখান থেকেই বাড়তে পারে হিট এগজশন বা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি।

এত গরমেও ঘামছে না শরীর! ছবি: সংগৃহীত

কেন কমে যায় ঘাম?
শরীরে জলের ঘাটতি
প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে দ্রুত জল বেরিয়ে যায়। পর্যাপ্ত জল না খেলে শরীর নিজেই জল বাঁচিয়ে রাখতে চেষ্টা করে। তখন ঘাম কমতে শুরু করে। কিন্তু এর ফলে শরীরের তাপমাত্রা আরও দ্রুত বাড়ে এবং হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হয়।

হিটস্ট্রোকের পূর্বলক্ষণ
চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে শরীর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যদি শরীর গরম লাগে কিন্তু ত্বক শুষ্ক থাকে, তাহলে তা হিটস্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা না হলে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি ও পেশিতে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।

কিছু অসুখের প্রভাব
ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, পারকিনসন্স ডিজিজ, স্নায়ুর অসুখ বা কিছু ত্বকের রোগ ঘামগ্রন্থির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করতে পারে। ফলে শরীর সহজে ঠান্ডা হতে পারে না।

কিছু ওষুধও দায়ী
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ওষুধ শরীরের ঘাম হওয়ার প্রক্রিয়া কমিয়ে দেয়। যেমন-

  • অ্যান্টি-হিস্টামিন
  • অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কিছু ওষুধ
  • কিছু মানসিক রোগের ওষুধ

এই ধরনের ওষুধ খেলে গরমে আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

গরমে ঘাম অস্বাভাবিক নয়। ছবি: সংগৃহীত

বয়স্ক ও শিশুদের ঝুঁকি বেশি
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘামগ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যায়। তাই প্রবীণদের শরীর দ্রুত অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। একইভাবে ছোট শিশুদের শরীরও তাপমাত্রা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, ফলে তারা দ্রুত ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত হন।

কোন লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন?
গরমে ঘাম কম হওয়ার সঙ্গে যদি এই উপসর্গগুলো দেখা যায়, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি-

  • মাথা ঘোরা
  • তীব্র মাথাব্যথা
  • দ্রুত হার্টবিট
  • বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক আচরণ
  • পেশিতে টান
  • বমি বমি ভাব
  • শুষ্ক ত্বক
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

এগুলো হিট এগজশন বা হিটস্ট্রোকের স্পষ্ট ইঙ্গিত হতে পারে।

দরকার পরিমিত জলপান। ছবি: সংগৃহীত

কীভাবে বাঁচবেন এই বিপদ থেকে?

  • তেষ্টা না পেলেও বারবার জল পান করুন
  • দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন
  • হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন
  • অতিরিক্ত চা, কফি বা অ্যালকোহল কমান
  • ঠান্ডা জল, ফ্যান বা এসির সাহায্যে শরীর ঠান্ডা রাখুন
  • বাড়ির বয়স্ক ও শিশুদের দিকে বিশেষ নজর দিন

চিকিৎসকদের কথায়, প্রচণ্ড গরমে শরীর ঘাম বন্ধ করে দিলে সেটিকে কখনও হালকাভাবে নেবেন না। কারণ অনেক সময় এটাই হতে পারে হিটস্ট্রোকের প্রথম বড় সতর্কবার্তা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement