ওজন কমানো থেকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় ব্রাউন ব্রেডের নাম বহুদিন ধরেই একেবারে উপরের সারিতে। সকালের ব্রেকফাস্টে মাখন বা জ্যামের সঙ্গে ব্রাউন ব্রেড বা বাদামী পাউরুটি মানেই যেন একটু বেশি স্বাস্থ্য সচেতন জীবনযাপন। কিন্তু সেই বিশ্বাসেই এবার বড় ধাক্কা!
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ ব্রাউন ব্রেড স্বাস্থ্যকর নয়। বরং সেগুলির বড় অংশই তৈরি পরিশোধিত ময়দা দিয়ে, আর বাদামি রং আনতে ব্যবহার করা হয় ক্যারামেল কালার। অর্থাৎ, বাইরে থেকে দেখতে হেলদি হলেও ভিতরে তা সাদা পাউরুটির থেকে খুব একটা আলাদা নয়।
বহু বছর ধরে সাধারণ মানুষ ভাবছেন ব্রাউন ব্রেড মানেই স্বাস্থ্যকর। অথচ বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেটা শুধুই রং করা ময়দা। অনেক কোম্পানি ক্যারামেল কালার ব্যবহার করে পাউরুটিকে বাদামি রঙে পরিণত করে, যা সফট ড্রিঙ্কেও ব্যবহার করা হয়।
বাদামী আর সাদা পাউরুটির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? ছবি: সংগৃহীত
'ব্রাউন' মানেই কি সম্পূর্ণ গমের আটা?
সাধারণ ধারণা, ব্রাউন ব্রেড মানেই তা সম্পূর্ণ গমের আটা দিয়ে তৈরি এবং তাতে ফাইবার বেশি থাকে। কিন্তু বাস্তবটা এত সহজ নয়। খাদ্য লেবেলিং নিয়ম অনুযায়ী, কোনও পাউরুটিতে ৫০ শতাংশের সামান্য বেশি হোল হুইট বা গমের আটা থাকলেই সেটিকে ব্রাউন ব্রেড বলা যায়। বাকি অংশে থাকতে পারে ময়দা বা অন্যান্য পরিশোধিত উপাদান।
ফলে অনেক সময় যে পাউরুটিকে স্বাস্থ্যকর ভেবে কেনা হচ্ছে, তা শরীরে প্রায় সাদা পাউরুটির মতোই আচরণ করে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্যাকেটের রং বা বড় বড় দাবি দেখে নয়, আগে উপাদানের তালিকা পড়ুন। উপাদানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তে শর্করার ক্ষেত্রেও খুব বেশি পার্থক্য নেই
অনেকেই মনে করেন ব্রাউন ব্রেড খেলে রক্তে শর্করা ধীরে বাড়ে। তবে গবেষণা বলছে, সাদা ও বাদামী পাউরুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পার্থক্য খুবই কম। অর্থাৎ, যথেষ্ট ফাইবার বা আসল হোল গ্রেন না থাকলে শুধু রং বদলালেই খাবার স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের খাবার দ্রুত খিদে বাড়াতে পারে, রক্তে শর্করার ওঠানামা ঘটাতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন ও ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
লেবেল ভালো করে পড়ে কিনুন। ছবি: সংগৃহীত
শুধু পাউরুটি নয়, চিন্তার কারণ রাসায়নিকও
প্যাকেটজাত পাউরুটিতে প্রায়শই নানা ধরনের ইমালসিফায়ার, প্রিজারভেটিভ ও অ্যাডিটিভ ব্যবহার করা হয়, যাতে পাউরুটি দীর্ঘদিন নরম ও তাজা থাকে। তবে কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত এই উপাদানগুলি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত অতিরিক্ত প্রসেসড খাবার খাওয়ার অভ্যাস হজমের সমস্যা, প্রদাহ এবং বিপাকক্রিয়ার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বাস্থ্যকর পাউরুটি চিনবেন কীভাবে?
- ১০০ শতাংশ গমের আটা লেখা আছে কি না দেখুন
- ফাইবারের পরিমাণ বেশি কি না খেয়াল করুন
- ক্যারামেল কালার বা অতিরিক্ত রং আছে কি না দেখুন
- কম অ্যাডিটিভ ও কম প্রিজারভেটিভযুক্ত ব্রেড বেছে নিন
- অতিরিক্ত প্রসেসড খাবার যতটা সম্ভব কম খান
বিশেষজ্ঞদের মতে, 'ব্রাউন' শব্দটা কোনও খাবারকে স্বাস্থ্যকর প্রমাণ করে না। তাই বিজ্ঞাপনের দাবি নয়, সচেতনভাবে লেবেল পড়েই খাবার বেছে নিন।
