স্ট্রোক মানেই হঠাৎ তীব্র ব্যথা, এই ধারণাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় বিপদ ডেকে আনে। কারণ বহু স্ট্রোকের ঘটনাই ঘটে সম্পূর্ণ নিঃশব্দে, কোনও ব্যথা ছাড়াই। ফলে আমরা লক্ষণ বুঝতে দেরি করি, আর সেই দেরিই তৈরি করে জটিলতা।
নিউরোসার্জনদের মতে, স্ট্রোকের শুরুটা অনেক সময় এতটাই নিঃশব্দে হয় যে, রোগী নিজেও বুঝতে পারেন না কী ঘটছে। তাঁদের কথায়, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ব্যথা না থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই শুধু ব্যথার অপেক্ষায় থাকলে বিপদ আরও বাড়ে।
দেরি হলে বিপদ বাড়ে। ছবি: সংগৃহীত
ভুল ধারণার ফাঁদ
অনেকে মনে করেন, ব্যথা না থাকলে সমস্যা গুরুতর নয়। কিন্তু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ঠিক উলটোটা সত্যি। মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ বা কমে গেলে শরীরের নির্দিষ্ট অংশ কাজ করা বন্ধ করে দেয়, কিন্তু ব্যথা অনুভূত নাও হতে পারে। তাই লক্ষণগুলো চেনাই এখানে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
শরীর সংকেত দেয়
ব্যথা না থাকলেও শরীর হঠাৎ কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেয়-
হঠাৎ অবশ বা দুর্বলতা
শরীরের এক পাশ যেন হঠাৎ অবশ হয়ে যায়। হাসলে মুখ বেঁকে যায়, এক হাত বা পা ঠিকভাবে কাজ করে না- এই পরিবর্তনগুলোকে কখনওই হালকা ভাবে নেবেন না।
কথা জড়িয়ে যাওয়া বা বুঝতে সমস্যা
হঠাৎ কথা অস্পষ্ট, শব্দ খুঁজে না পাওয়া বা অন্যের কথা বুঝতে অসুবিধা, এগুলো স্ট্রোকের খুব গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা
ঝাপসা দেখা বা হঠাৎ এক চোখে দৃষ্টি কমে যাওয়া, যেটা অনেক সময় স্ট্রোকের প্রথম ইঙ্গিত।
লক্ষণ বোঝাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: সংগৃহীত
ভারসাম্য হারানো, মাথা ঘোরা
হঠাৎ হাঁটতে সমস্যা বা শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারানো, এটা বিপদের সঙ্কেত।
মাথাব্যথা না থাকলেও বিপদ কমে না
কিছু স্ট্রোকে তীব্র মাথাব্যথা থাকতে পারে, বিশেষ করে রক্তক্ষরণজনিত ক্ষেত্রে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই কোনও ব্যথা থাকে না। তাই ব্যথা নেই মানে সমস্যা নেই- এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
মনে রাখুন B.E.F.A.S.T.
স্ট্রোক চেনার সহজ উপায় হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেন-
Balance (ভারসাম্য): হঠাৎ ভারসাম্য হারানো
Eye (চোখ): দৃষ্টির সমস্যা
Face (মুখ): মুখ বেঁকে যাওয়া
Arm (বাহু): হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া
Speech (কথা): কথা বলতে সমস্যা
Time (সময়): সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসা
প্রতিটা মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: সংগৃহীত
কেন এক মুহূর্তও দেরি নয়?
স্ট্রোকের কিছু ধরন, যেমন রক্তনালির ব্লকেজ বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, শুরুটা নিঃশব্দে হলেও দ্রুত ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। তাই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা পেলে রক্তের জমাট অপসারণ (থ্রম্বেকটমি) এবং ওষুধের মাধ্যমে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব। প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার তো রয়েছেই। এসবের মাধ্যমে স্থায়ী ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
স্ট্রোকে সবসময় ব্যথা থাকে না, অনেক সময় নিঃশব্দেই আঘাত হানে। ব্যথা না থাকলেও শরীরের হঠাৎ পরিবর্তনগুলোকে গুরুত্ব দিন। মনে রাখবেন, দ্রুত সিদ্ধান্তই বাঁচাতে পারে মস্তিষ্ক, বাঁচাতে পারে জীবন।
