shono
Advertisement
Marigold

পুজোর ফুল এবার প্লেটে? প্রোটিন নিয়ে নতুন চমক গবেষণায়

গাঁদা ফুল নিয়ে এই গবেষণা শুধু নতুন এক খাদ্য সম্ভাবনার কথাই বলছে না, বরং আমাদের চিন্তাভাবনাকেও বদলাতে শেখাচ্ছে। যেসব জিনিস আমরা এতদিন শুধুই পুজো বা সাজসজ্জা সামগ্রী হিসেবে দেখেছি, সেগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে আগামী দিনের পুষ্টির সমাধান।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 07:10 PM May 06, 2026Updated: 07:10 PM May 06, 2026

গাঁদা ফুল, আমরা সাধারণত পুজো বা উৎসবের সাজসজ্জার অংশ হিসেবেই দেখি। সেই গাঁদা ফুলই নাকি একদিন আমাদের খাবারের প্লেটে জায়গা করে নিতে পারে? সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, উত্তরটা 'হ্যাঁ' হতে পারে। বিজ্ঞানীরা এখন এই পরিচিত ফুলটিকেই ভবিষ্যতের প্রোটিনের অন্যতম উৎস হিসেবে খতিয়ে দেখছেন।

Advertisement

ফুলে প্রোটিন! ছবি: সংগৃহীত

গাঁদা ফুল: শুধুই সাজ নয়, পুষ্টির সম্ভাবনা
বৈজ্ঞানিক নাম ক্যালেন্ডুলা অফিসিনালিস। বহুদিন ধরেই ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু নতুন করে নজর কাড়ছে এর পুষ্টিগুণ। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফুলে প্রায় ২০-২৭% পর্যন্ত প্রোটিন থাকতে পারে, যা অনেক উদ্ভিজ্জ খাবারের তুলনায় বেশ বেশি। পাশাপাশি এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ফেনলিক যৌগ, যা শরীরের জন্য উপকারী।

গবেষণায় কী জানা গেল?
এসিএস ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রকাশিত গবেষণায় গাঁদা ফুল থেকে প্রোটিন নিঃসরণের নানা পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, মোট প্রোটিনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯২ শতাংশ (ক্রুড প্রোটিন হিসেবে)। অ্যালবুমিন, গ্লোবুলিন, গ্লুটেলিন ও প্রোলামিন, এই চার ধরনের প্রোটিন আলাদা করা সম্ভব হয়েছে। অ্যালবুমিনই সবচেয়ে বেশি প্রায় ৬৫ শতাংশ। এ গুলোই ইঙ্গিত দেয় যে গাঁদা ফুল থেকে তৈরি প্রোটিন ভবিষ্যতে নানা খাদ্যপণ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত

কেন ফুলের দিকে ঝুঁকছেন বিজ্ঞানীরা?
বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা বাড়ছে, আর তার সঙ্গে বাড়ছে খাবারের চাহিদা। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। এই পরিস্থিতিতে কম খরচে জন্মায়, দ্রুত বৃদ্ধি পায়, এমন বিকল্প খাদ্য উৎসের খোঁজ জরুরি হয়ে উঠেছে। গাঁদা ফুল সেই তালিকায় নতুন সংযোজন।আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ফুলের অপচয় কমানো। যেসব ফুল আমরা ব্যবহার শেষে ফেলে দিই, সেগুলোকেই নতুনভাবে কাজে লাগানো গেলে তা পরিবেশের জন্যও উপকারী।

কীভাবে ব্যবহার হতে পারে গাঁদা ফুলের প্রোটিন?
গবেষকদের মতে, গাঁদা ফুল থেকে পাওয়া প্রোটিন ভবিষ্যতে খাদ্য উপাদান হিসেবে নিউট্রিশনাল ব্লেন্ডে ব্যবহার হতে পারে। নতুন প্ল্যান্ট-বেসড খাবারে এর সংযোজন সম্ভব। এছাড়া স্বাস্থ্যকর ফোর্টিফায়েড খাবার বা সাপ্লিমেন্ট তৈরিতেও কাজে লাগতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

দরকার আরও গবেষণা। ছবি: সংগৃহীত

 গাঁদা ফুল কি নিরাপদ?
এই জায়গাতেই একটু সতর্ক হওয়া দরকার। যদিও গবেষণা আশাব্যঞ্জক, তবুও গাঁদা ফুল এখনও সাধারণ খাদ্য হিসেবে স্বীকৃত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই গাঁদা ফুল খাদ্য হিসেবে ব্যবহার উচিত নয়। পুজো বা সাজসজ্জার ফুলে কীটনাশক থাকতে পারে। মানবদেহে নিরাপদ কিনা, তা নিয়ে আরও পরীক্ষা ও অনুমোদন প্রয়োজন।

ভবিষ্যতের ইঙ্গিত
গাঁদা ফুল নিয়ে এই গবেষণা শুধু নতুন এক খাদ্য সম্ভাবনার কথাই বলছে না, বরং আমাদের চিন্তাভাবনাকেও বদলাতে শেখাচ্ছে। যেসব জিনিস আমরা এতদিন শুধুই পুজো বা সাজসজ্জা সামগ্রী হিসেবে দেখেছি, সেগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে আগামী দিনের পুষ্টির সমাধান।

তবে বাস্তবে খাবারের টেবিলে গাঁদা ফুল আসতে এখনও সময় লাগবে। তবুও এটুকু স্পষ্ট- খাদ্য-গবেষণার জগতে নতুন দরজা খুলে দিয়েছে এই ছোট্ট ফুলটি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement