গরমে কোন কোন পানীয়ে চুমুক?
গরমের দিনে পর্যাপ্ত পানীয় পান করতেই হবে। যাঁদের তরলে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই, তাঁরা সারাদিনে অন্তত ৩ লিটার পানীয় পান করতেই পারেন। প্রথমেই বলি, সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং অবহেলিত পানীয় জলের কথা। জল শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং ডিহাইড্রেশন রোধ করে। হজম ক্ষমতা উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। জল শরীর থেকে টক্সিন বা ক্ষতিকর পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। এক কথায় জল হল প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার। জল ছাড়া আরও কী কী পানীয় দহন দিনে আপনার সঙ্গী হতে পারে, চলুন জেনে নেওয়া যাক-
ডাবের জল। ছবি: সংগৃহীত
ডাবের জল: গরমে ডাবের জল খুব আরামদায়ক পানীয়। তীব্র দাবদাহের মধ্যে ডাবের জল শরীরকে আরাম দেয়। ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে। ডাবের জলে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ইলেক্ট্রোলাইটস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ। ডাবের জলে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীর ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে। কিন্তু কারোর যদি কিডনি বা হার্টের কোনও সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডাবের জল পান করা উচিত।
তরমুজ: এটি একটি সুস্বাদু ফল এবং অনেকেরই প্রিয়। এতে প্রচুর পরিমাণে জল আছে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। তরমুজে রয়েছে লাইকোপেন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই ফল স্বাদে মিষ্টি ও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স একটু বেশি হলেও, গ্লাইসেমিক লোড খুবই কম, যা রক্তে শর্করার উপর সেরকম প্রভাব ফেলে না, তাই ডায়াবেটিকরাও এই ফল খেতে পারেন।
তরমুজ। ছবি: সংগৃহীত
বেল: বেলে রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি১, ভিটামিন-বি২, রাইবোফ্লাভিন। এটি পাকস্থলিকে ঠান্ডা রাখে। বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। রক্ত পরিশোধন ও লিভারকে রাখে ভালো। বেলে প্রাকৃতিক শীতল প্রভাব রয়েছে যা শরীরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। গরমকালে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে বেলের শরবত খুবই উপকারী।
টক দই: টক দইতে রয়েছে প্রোবায়োটিক, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-বি৬, ভিটামিন-বি১২। টক দই হজমশক্তি বাড়ায় ও পেটের প্রদাহ কমায়। পরিপাকতন্ত্র শক্তিশালী করে ও অস্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। সুতরাং, গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে দইয়ের শরবত, ম্মুদি, রায়তা বা দুপুরে খাবার পর টক দই অবশ্যই রাখা উচিত।
টক দই। ছবি: সংগৃহীত
শসা: শসায় রয়েছে প্রচুর জল ও ফাইবার। যা গরমে শরীর ও পেট ঠান্ডা রাখে, ক্লান্তি দূর করে। গরমের দিনে শসা স্যালাড হিসাবে বা টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। অন্যান্য সবজি যেমন লাউ, ঝিঙে, চিচিঙ্গা এবং টম্যাটো রাখা যেতে পারে।
লেবুর শরবত: লেবুতে রয়েছে ভিটামিন-সি, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়াও লেবুর শরবত আমাদের শরীর ডিটক্সিফাই করে।
ছাতুর শরবত: ছাতু শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ছাতু লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ফুড। তাই ডায়াবেটিকরাও খেতে পারেন। ছাতুর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ছাতুর শরবত অনেকক্ষণ পেট ভর্তি রাখে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এ ছাড়া হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতেও সাহায্য করে ছাতু।
বেলের শরবত। ছবি: সংগৃহীত
পুদিনা পাতার শরবত
ওআরএস: ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর নুন-জল বেরিয়ে যায়, তাই ওআরএস সঙ্গে রাখতেই হবে।
কী কী এড়িয়ে চলবেন?
- অ্যালকোহল
- গরম পানীয় যেমন চা, কফি, সুপ। এগুলি শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায় এবং ডিহাইড্রেশন করে
- কাঁচা নুন এবং নোনতা স্ন্যাক্স
- অতিরিক্ত ভাজাভুজি যেমন সিঙ্গাড়া, চপ, কাটলেট। এগুলো খেলে হজমের সমস্যা ও ফুড পয়জনিং হতে পারে
আইসক্রিম এড়িয়ে চলাই ভালো। ছবি: সংগৃহীত
- তেল-ঝাল-মশলাযুক্ত খাবার মটন, বিফ, পর্ক, ডিম, চিংড়ি, কাঁকড়া। এগুলি শরীরে তাপ উৎপন্ন করে। তাই গরমের দিনে এই খাবারগুলি যতটা কম খাওয়া যায় ততটাই ভালো
- আইসক্রিম। সাময়িক স্বস্তি দিলেও এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। আইসক্রিমে থাকা ক্রিম, চিনি এগুলি হজম হতে অনেক সময় লাগে। এই উপাদানগুলি ভাঙতে যে পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয় তা শরীরের জন্য ভালো নয়।
