আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মেদবহুল শরীর দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন? এ চিত্র নতুন কিছু নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যানে ভারতের ২৫ শতাংশ মানুষ স্থূলত্বের শিকার। অথচ জাপানের চিত্রটা ঠিক উল্টো। মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ মানুষ সেখানে মেদজনিত সমস্যায় ভোগেন। কী অবাক হচ্ছন তো? হ্যাঁ, অবাক হওয়ার মতোই বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, ঠিক কোন জাদুবলে জাপানিরা স্থূলত্বকে নিয়ন্ত্রণ করেন? তা কি জানা আছে?
ছবি: সংগৃহীত
জাপানিদের ডায়েট চার্টে ধরাবাঁধা কোনও বিধিনিষেধ নেই। আছে কেবল অদ্ভুত কিছু নিয়ম। তাঁরা পেট ভরে খাওয়ার তত্ত্বে বিশ্বাসী নন। তাঁদের মন্ত্র হল ‘হারা হাচি বু’। অর্থাৎ, পেট ৮০ শতাংশ পূর্ণ হলেই খাওয়া থামিয়ে দেওয়া। লোভনীয় খাবার সামনে থাকলেও তাঁরা সংযম হারান না। এছাড়া বড় থালার বদলে ছোট বাটি বা ডিশে অল্প করে খাবার নিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তাঁদের অতিরিক্ত ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সুযোগ করে দেয়।
তাঁদের খাদ্যতালিকায় ব্রাত্য প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার। মাছ, টাটকা সবজি আর মরশুমি ফলেই রসনাতৃপ্তি করেন তাঁরা। খাওয়ার সময় কোনও তাড়াহুড়ো নেই। ধীরে সুস্থে প্রতিটি গ্রাস ভালো করে চিবিয়ে খান জাপানিরা। এতে কম খাবারেই পেট ভরে যায়। হজম হয় দ্রুত। এমনকী স্নানের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। ঠান্ডা জলের বদলে গরম জলে স্নানই তাঁদের পছন্দ। এই গরম জল শরীরে ‘হিট শক প্রোটিন’ তৈরি করে, যা দ্রুত মেদ ঝরাতে অনুঘটকের কাজ করে।
ছবি: সংগৃহীত
শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও জাপানিরা একধাপ এগিয়ে। জিম নয়, বরং তাঁদের তুরুপের তাস ‘হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ওয়াকিং’। ৫ মিনিট ধীর লয়ে হাঁটার পর ১০ মিনিট প্রবল গতিতে হাঁটা—এই বিরতি পদ্ধতিতেই ঘাম ঝরিয়ে অতিরিক্ত ক্যালোরি পুড়িয়ে ফেলেন তাঁরা। ভাত ঘুম বা আলস্য তাঁদের অভিধানে নেই। পরিমিত আহার আর বিজ্ঞানসম্মত হাঁটার যুগলবন্দিতেই জাপানিরা আজও বিশ্বের দরবারে ফিটনেসের আইকন। শরীর ও মনের এই ভারসাম্যই তাঁদের দীর্ঘায়ু ও সতেজতার আসল চাবিকাঠি।
