সকালের প্রাতরাশ বা ব্রেকফাস্টকে বলা হয় দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। কারণ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীর ও মস্তিষ্ককে নতুন করে শক্তি জোগায় প্রাতরাশ। তবে সব বয়সের মানুষের পুষ্টির চাহিদা এক নয়। পুষ্টিবিদের কথায়, বয়স অনুযায়ী সঠিক প্রাতরাশ বেছে নেওয়া জরুরি। সুষম ও পুষ্টিকর প্রাতরাশ শুধু কর্মক্ষমতাই বাড়ায় না, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হজম এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ভালো রাখে।
ছবি: সংগৃহীত
৬ মাস থেকে ২ বছর
এই সময় শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ দ্রুত হয়। তাই শিশুকে খাওয়াতে হবে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার।
প্রাতরাশে কী থাকবে: সুজির খিচুড়ি, ম্যাশ করা কলা, ওটস বা ডালিয়া, দই।
সময়: সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে।
ছবি: সংগৃহীত
৩ থেকে ১২ বছর
এই সময় স্কুল, খেলাধুলা ও শেখার জন্য শিশুদের প্রয়োজন শক্তি ও পর্যাপ্ত পুষ্টি।
কেমন হবে প্রাতরাশ: ডিম ও টোস্ট, সুজির উপমা, এক গ্লাস দুধ, কলা বা আপেল।
সময়: সকাল ৭:৩০ থেকে ৮টার মধ্যে।
ছবি: সংগৃহীত
১৩ থেকে ১৮ বছর
কৈশোরে শরীরের দ্রুত বৃদ্ধি ও হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন।
প্রাতরাশে থাকবে: রুটি বা পরোটা সঙ্গে ডিম, ওটস বা মুসলি, দুধ, মরশুমি ফল।
সময়: সকাল ৭টা থেকে ৮:৩০-এর মধ্যে।
ছবি: সংগৃহীত
১৯ থেকে ৪০ বছর
কর্মব্যস্ত জীবনে সারাদিন সতেজ ও কর্মক্ষম থাকতে সুষম ডায়েটের বিকল্প নেই।
প্রাতরাশে কী কী থাকবে: ব্রাউন ব্রেড ও সেদ্ধ ডিম, ওটস বা সবজি উপমা, চিনি ছাড়া চা বা দুধ, ফল।
সময়: সকাল ৭টা থেকে ৮:৩০-এর মধ্যে।
ছবি: সংগৃহীত
৪০ বছরের বেশি বয়সে
এই সময় হজমক্ষমতা ও বিপাকক্রিয়া কিছুটা কমে আসে। তাই ফাইবার বা আঁশসমৃদ্ধ, কম তেল-মসলাযুক্ত খাবার বেশি উপকারী।
প্রাতরাশ মেনু: ডালিয়া, সবজির স্যুপ, ইডলি বা রুটি, পেঁপে বা আপেল।
সময়: সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে।
সুস্থ থাকতে আরও কিছু পরামর্শ
- কখনও সকালের বেকফাস্ট স্কিপ করবেন দেবেন না।
- পর্যাপ্ত জল পান করুন।
- অতিরিক্ত তেল, চিনি ও জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন।
- প্রতিদিন মরশুমি ফল ও শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখুন।
- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাতরাশের মেনু ঠিক করুন।
মনে রাখবেন, একটি স্বাস্থ্যকর সকালই একটি সুস্থ দিনের ভিত্তি। তাই বয়স অনুযায়ী সঠিক প্রাতরাশ বেছে নিন এবং সুস্থ থাকুন।
