দুপুর হলেই ঘুম পায়? শরীর অবসন্ন লাগে, চাইলেও চোখ খুলে রাখা যায় না? হয়তো দেখা যাবে, সারা রাত শান্তির ঘুমের পরেও দুপুর হলেই চোখ বুজে আসছে। সেক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া যেমন সমস্যার, অতিরিক্ত ঘুম পাওয়াও একই রকম সমস্যাজনক। তাছাড়া এমন হতে পারে যে কেবল বাড়িতে নয়, অফিসে থাকা অবস্থাতেও ঢুলু ঢুলু ভাব বিপত্তি বাড়াচ্ছে (Why You Feel Sleepy Every Afternoon)।
কাজের চাপ, সারাদিনের ক্লান্তি, বয়সের ভার তো রয়েছেই, তবে এমন ঘুম-ঘুম ভাবের নেপথ্যে কারণ হতে পারে ভিটামিন ডি-এর অভাবও। ভিটামিন ডি হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে, এনার্জি দিনভর ধরে রাখে। শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কমে গেলে দিনের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ ক্লান্তি দেখা দেয়। বহু মানুষের ক্ষেত্রেই শরীরে ভিটামিন ডি নির্ধারিত মাত্রার থেকে অনেকটাই নিচে থাকে।
ডিটামিন ডি-এর সবচাইতে বড় উৎস হল সূর্যালোক। আমাদের দেশ গ্রীষ্মপ্রধান হলেও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিই এখানকার অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। গৃহবধূরা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের ভিতরে থাকে, অন্যদিকে চাকুরীজীবীদের দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় অফিসের ভিতরে। অনেকে আবার ক্ষতিকারক ইউ-ভি রশ্মির হাত থেকে বাঁচতে সূর্যের আলো যথাসম্ভব এড়িয়ে চলেন।
শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা 'সার্কাডিয়ান রিদম' অনুযায়ী দুপুর দুটো থেকে চারটের মধ্যে ক্লান্তি অনুভব করা স্বাভাবিক। কিন্তু ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি এই স্বাভাবিক ‘আফটারনুন ডিপ’-কে আরও তীব্র করে তোলে। এছাড়াও জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস দিনের বেলার ক্লান্তি বাড়াতে পারে। যেমন—
• অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত দুপুরের খাবার
• শরীরে জলের ঘাটতি
• খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকা
• দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা এবং পর্যাপ্ত নড়াচড়া না করা
শক্তি ফেরাতে কী করা যেতে পারে?
চিকিৎসকদের মতে, শুধু বেশি ঘুমালেই এই সমস্যা ঠিক নাও হতে পারে। প্রয়োজন হলে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট, সুষম খাবার, দুপুরের খাবারের পর হালকা হাঁটা এবং নিয়মিত ও পরিমিত সূর্যালোক গ্রহণ উপকারী হতে পারে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাব থাকলে তার পিছনে থাকতে পারে আরও গুরুতর কোনও কারণ, যার সমাধান কেবল চিকিৎসকেরাই করতে পারবেন।
