মধ্যবিত্তের সংসারে এসি অনেক সময়ই নাগালের বাইরে থেকে যায়। আর সেই জায়গাটা পূরণ করে এয়ার কুলার। এই কাঠফাটা গরমে কিছুটা স্বস্তি পেতে তাতেই ভরসা অধিকাংশের। কিন্তু মুশকিল হল, দীর্ঘদিন একনাগাড়ে ব্যবহারের জন্যই হোক কিংবা ঠিকভাবে পরিষ্কার না করার জন্য, কুলার থেকে তীব্র আঁশটে গন্ধ বেরোতে থাকে। আর তাতেই বাড়ির পরিবেশ দুর্ঘন্ধযুক্ত হয়ে যায়। আসলে কুলারের জমা জলে জন্মানো শ্যাওলা এবং ব্যাকটেরিয়াই এই বিপত্তির মূলে। যন্ত্রটি নিয়মিত সাফ না করলে আরামের বদলে তা অসুখই ডেকে আনে। তবে চিন্তা নেই। হেঁশেলের কয়েকটি জিনিস হাতের কাছে রাখলেই এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়।
ছবি: সংগৃহীত
১) সাদা ভিনেগার: কুলার পরিষ্কার করতে ভিনেগার দারুণ কাজের। এটি একটি প্রাকৃতিক ক্লিনিং এজেন্ট। প্রথমে কুলারের ট্যাঙ্ক থেকে পুরনো জল বের করে দিন। এবার তাতে পরিষ্কার জল ভরে আধ কাপ সাদা ভিনেগার মিশিয়ে দিন। ঘণ্টাখানেক ওভাবেই রেখে দিন। এরপর জল ফেলে দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। ভিনেগার ব্যাকটেরিয়া মারতে এবং জমে থাকা খনিজ স্তর তুলতে সাহায্য করে।
২) বেকিং সোডা: ঘরের দুর্গন্ধ শুষে নিতে বেকিং সোডার জুড়ি মেলা ভার। কুলার চালানোর সময় আঁশটে গন্ধ বেরোয়? চিন্তার কিছু নেই। এক-দু’ চামচ বেকিং সোডা নিন। কুলারের ট্যাঙ্কে মেশান। জলের সঙ্গে মিশিয়ে ওই ভাবে ২০ মিনিট রেখে দিন। পরে কুলারের ট্যাঙ্ক ভালো করে ধুয়ে নিন। এতে গন্ধ তো যাবেই, সঙ্গে কুলারের ভিতরের অংশও ঝকঝকে হবে।
৩) কুলিং প্যাড পরিষ্কার: শুধু ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করলেই হবে না। কুলারের গায়ে থাকা ঘাসের বা কাঠের খড়ির প্যাডগুলোও পরিষ্কার রাখা জরুরি। ভিনেগার বা মাইল্ড সাবান মেশানো জলে এই প্যাডগুলো ভিজিয়ে ব্রাশ দিয়ে হালকা ঘষে নিন। এতে ধুলোবালি ও জীবাণু দূর হবে। প্যাড পরিষ্কার থাকলে হাওয়াও হবে সতেজ।
ছবি: সংগৃহীত
৪) ট্যাঙ্কের জল পালটান: কুলার ভালো রাখতে নিয়মিত জল পালটান। অন্তত প্রতি দু’দিন অন্তর ট্যাঙ্কের জল বদলে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার ঘষেমেজে কুলার সাফ করুন। আর যখন ব্যবহার করবেন না, তখন ট্যাঙ্কটি খালি করে শুকনো অবস্থায় রাখুন। আর্দ্রতা না থাকলে জীবাণু জন্মানোর ভয় থাকে না।
