শৈশব মানেই একঘর খেলনা। আর রাশি রাশি বায়না। খুদের আলমারি উপচে পড়ে দামি গাড়ি। পুতুল। কিংবা রান্নাবাটি। কিন্তু মুশকিল বাধে তখনই, যখন পছন্দের সেই খেলনাটি ভেঙে যায়। মায়া পড়ে থাকে গাড়ির ভাঙা চাকায়। কিংবা কান-কাটা পুতুলে। মায়ার টানে সেই বাতিল জিনিস সযত্নে থেকে যায় ঘরের কোণে। বাস্তুবিদরা বলছেন, এই মায়াই হতে পারে আপনার গৃহের জন্য মারাত্মক। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এই অভ্যাস আদতে ডেকে আনছে চরম অশুভ ইঙ্গিত।
ছবি: সংগৃহীত
বাস্তুশাস্ত্র মতে, যে কোনও ভাঙা বা অকেজো বস্তু স্থবিরতার পরিচয় দেয়। বাড়িতে অকেজো জিনিস জমিয়ে রাখা মানেই নেতিবাচক শক্তি বা 'নেগেটিভ এনার্জি'কে আমন্ত্রণ জানানো। এই নেতিবাচক প্রভাব সব থেকে বেশি পড়ে শিশুদের ওপর। ঘরোয়া এই বাস্তুদোষের কারণে শিশুর মনোযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে। খিটখিটে মেজাজ, জেদ বেড়ে যাওয়া কিংবা পড়াশোনায় অনীহা দেখা দেয় বেশি।
এই ভাঙা খেলনাগুলি কেউ কেউ অভাবী ছেলেমেয়েদের দিয়ে দেন। এখানেও সতর্ক করছেন বাস্তুবিদরা। শাস্ত্র মতে, ক্ষতিগ্রস্ত বা ভাঙাচোরা জিনিস কখনওই দান করা উচিত নয়। এতে পুণ্যের চেয়ে অমঙ্গল হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। কাউকে কিছু উপহার বা দান করতে হলে তা সব সময় সচল এবং সুন্দর হওয়া জরুরি। তাই জঞ্জাল পরিষ্কারের নাম করে ভাঙা খেলনা অন্যকে দেবেন না।
ছবি: সংগৃহীত
ভাঙা খেলনা গৃহের কোথায় রাখা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ?
বাড়ির সব জায়গায় নেতিবাচক শক্তির প্রভাব সমান হয় না। বিশেষ করে শিশুর পড়ার টেবিল বা পড়ার ঘরে ভাঙা টুকরো রাখা একেবারেই অনুচিত। এটি বুদ্ধির বিকাশে বাধা দেয়। শোওয়ার ঘরে বা বিছানার নিচে এই ধরনের বাতিল জিনিস থাকলে তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এমনকী বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারের কাছেও ভাঙা খেলনা পড়ে থাকা অশুভ। এতে বাড়িতে শুভ শক্তির প্রবেশ রুদ্ধ হয়ে যায়।
কী করবেন?
আবেগ সরিয়ে বাস্তববাদী হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। খেলনা অকেজো হয়ে গেলে তা যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি থেকে বিদায় করুন। মনে রাখবেন, পরিষ্কার এবং সুন্দর পরিবেশই ঘরে ইতিবাচকতা বজায় রাখে। মায়া কাটিয়ে ভাঙা জিনিস সরিয়ে ফেললে তবেই সংসারে সুখ-শান্তি ও শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে। আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য ঘর জঞ্জালমুক্ত রাখুন।
