বৈশাখের দহনজ্বালায় নাভিশ্বাস উঠছে জনজীবনের। রোদের তেজ আর তীব্র গরমে এখন অনেকেরই শেষ ভরসা হয়ে উঠেছে এয়ার কুলার। এসি কেনার সামর্থ্য নেই যাদের, তাদের ড্রয়িং রুম বা শোওয়ার ঘরে ঘুরছে কুলারের চাকা। কিন্তু আপনি কি জানেন, সামান্য একটু অসাবধানতা আপনার প্রিয় এই যন্ত্রটিকে আস্ত একটি মরণফাঁদে পরিণত করতে পারে? সম্প্রতি তেলঙ্গানায় কুলার থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা আমাদের নতুন করে সতর্ক করছে। জেনে নিন কোন কোন ভুলের মাসুল দিতে হতে পারে জীবন দিয়ে।
ছবি: সংগৃহীত
জল ভরার সময় সাবধান হোন
অনেকেই অলসতা করে কুলার চালু থাকা অবস্থায় তাতে জল ভরেন। এটি সবথেকে বড় ভুল। জল এবং বিদ্যুৎ— এই দুয়ের রসায়ন মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই কুলারে জল ঢালার আগে বা পরিষ্কার করার আগে অবশ্যই প্লাগটি সকেট থেকে সম্পূর্ণ খুলে নিন। ভিজে হাতে সুইচ বা প্লাগ স্পর্শ করা মানেই সাক্ষাৎ মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানো।
ওয়্যারিং পরীক্ষা করুন
পুরনো কুলার ফের ব্যবহারের আগে ভালো করে তারের অবস্থা দেখে নেওয়া জরুরি। বছরের পর বছর পড়ে থাকার ফলে ইঁদুর বা অন্য কোনও কারণে তারের প্লাস্টিক আবরণ অনেক সময় ছিঁড়ে যায়। খোলা তার লোহার বডির সংস্পর্শে এলে পুরো যন্ত্রটিই একটি জ্যান্ত বোমায় পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের বাড়িতে লোহার বডির পুরনো মডেলের কুলার আছে, তাঁদের বিপদের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেশি। বর্তমান বাজারে যে ফাইবার বা প্লাস্টিক বডির শক-প্রুফ কুলার পাওয়া যায়, নিরাপত্তার খাতিরে সেগুলিই ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
ছবি: সংগৃহীত
শকের লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না
কুলারের সুইচ দিতে গিয়ে কি মাঝেমধ্যে হালকা সুড়সুড়ি অনুভব করছেন? বা যন্ত্রের গায়ে হাত লাগলে সামান্য ঝটকা দিচ্ছে? তবে জানবেন এটি বড় কোনও দুর্ঘটনার আগাম বার্তা। এই ছোট লক্ষণটিকে অবহেলা না করে তৎক্ষণাৎ কোনও দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করান। আর্থিং-এর সমস্যায় এই ধরনের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি স্নান করে এসেই বা ভেজা শরীরে কুলারের সুইচ ধরবেন না। জল বিদ্যুতের সুপরিবাহী হওয়ায় ভিজে শরীরে শকের তীব্রতা অনেকটাই বেড়ে যায়। সবসময় শুকনো পায়ে এবং প্লাস্টিকের চটি ব্যবহার করে কুলার চালানো উচিত।
