অন্দরসজ্জায় এখন সবুজের ছোঁয়া বেশ জনপ্রিয়। শোবার ঘরে এক চিমটি সজীবতা আনতে আমরা অনেকেই গাছ রাখি। কোনও গাছ যেমন চোখের আরাম বৃদ্ধি করে। তেমনই ঘরের হাওয়া-বাতাস ভালো রাখতেও কোনও কোনও গাছের তুলনা হয় না। কিন্তু সব গাছ কি শোবার ঘরে রাখা যায়? বিশেষ করে আলো-বাতাস কম খেলে এমন ঘরে অনেক দামী গাছও অকালে প্রাণ হারাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইড নয়, রক্ষণাবেক্ষণ ও আর্দ্রতার নিরিখেও বেশ কিছু গাছ শোবার ঘরের জন্য একেবারেই মানানসই নয়। কোন কোন গাছ জানেন কি?
ইচেভেরিয়ার: নরম রঙের এই সাকুলেন্ট দেখতে ভারি মিষ্টি। কম জায়গা লাগে বলে অনেকে একে বেডসাইড টেবিলে রাখেন। কিন্তু এই গাছ চড়া রোদে বেশি ভালো থাকে। শোবার ঘরের মৃদু আলোয় এই গাছ লম্বাটে ও ফ্যাকাসে হয়ে যায়। এর শ্রী ধরে রাখতে দক্ষিণমুখী জানলাই একমাত্র ভরসা।
বোস্টন ফার্ন: সবুজ ঝোপের মতো সুন্দর দেখতে হলেও শোবার ঘরের জন্য গাছটি উপযুক্ত নয়। এই গাছের জন্য প্রচুর জল প্রয়োজন। বদ্ধ ঘরে আর্দ্রতা কম থাকলে এর সূক্ষ্ম পাতাগুলি শুকিয়ে ঝরে পড়তে থাকে। এতে ঘর নোংরা হয় বেশি। শোবার ঘরে গাছটি কখনওই রাখবেন না।
ফিডল লিফ ফিগ: ইদানীং ড্রয়িং রুমে এই গাছ রাখার চল বেড়েছে। অনেকে বেডরুমের কোণাতেও এটি রেখে থাকেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এটি বেশ বড় আকারের হয়। শোবার ঘরের সীমিত জায়গায় এর বড় পাতাগুলি চলাফেরায় অসুবিধা করে। পর্যাপ্ত রোদ না পেলে এই গাছ খুব দ্রুত পাতা ঝরিয়ে কঙ্কালসার হয়ে ওঠে।
রাবার প্ল্যান্ট: চকচকে গাঢ় পাতার রাবার প্ল্যান্ট ঘরের আভিজাত্য বাড়ায় ঠিকই, কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন খোলামেলা জায়গা ও পর্যাপ্ত আলো। বেডরুমে সাধারণত এই পরিমাণ আলো পাওয়া যায় না। এছাড়া এর দ্রুত বৃদ্ধি শোবার ঘরের ছিমছাম ভাব নষ্ট করে ফেলে।
প্রেয়ার প্ল্যান্ট: প্রেয়ার প্ল্যান্ট যেকোনও ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে। তবে শোবার ঘরে এটি না রাখাই ভালো। কলের জলে থাকা ফ্লোরাইড এই গাছের ভীষণ ক্ষতি করে। পুরসভার সরবরাহ করা সাধারণ জল ব্যবহারে গাছের পাতার ধারগুলো খয়েরি হয়ে কুঁকড়ে যায়। এর বদলে প্রেয়ার প্ল্যান্টে বৃষ্টির জল বা বোতলজাত জল ব্যবহার করা উচিত। যেহেতু প্রচুর জল দিতে হয় গাছটিতে, তাই একে বাথরুম বা রান্নাঘরে রাখা ভালো।
এছাড়া সুগন্ধি গার্ডেনিয়া বা গন্ধরাজ বাইরে ভালো হলেও ঘরের ভেতরের তাপমাত্রার হেরফের একদম সইতে পারে না। তাই সবুজে ঘর সাজানোর আগে সেই গাছের চরিত্র বুঝে নেওয়া জরুরি। না হলে শখের বাগান অকালেই শেষ হয়ে যাবে।
