বাঙালির হেঁশেলে আর যাই থাকুক না কেন, চালের মজুত থাকা চাই-ই। কিন্তু মুশকিল বাধে অন্যখানে। চাল খুব বেশি দিন মজুত রাখা যায় না। তাতে পোকা ধরে যায়। অনেক সময় বাজার থেকে বেশি চাল কিনে রাখলে তাতে দ্রুত পোকা জন্মে যায়। আর্দ্রতার কারণেই হোক বা ঠিকমতো সংরক্ষণ না করার জন্য এই বিপদ ঘটে। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কোনও খরচ ছাড়াই বাড়ির সাধারণ কিছু জিনিস ব্যবহার করে আপনি বছরভর চাল একদম ফ্রেশ রাখতে পারেন। জেনে নিন সহজ ৪টি পদ্ধতি।
ছবি: সংগৃহীত
চাল রাখার জন্য সবার আগে প্রয়োজন একটি সঠিক পাত্র। চাল সবসময় প্লাস্টিক বা স্টিলের এয়ারটাইট কন্টেনারে রাখুন। আর্দ্রতা হল পোকাদের প্রিয় বন্ধু। তাই চাল রাখার আগে নিশ্চিত করুন পাত্রটি যেন ভেতর থেকে একদম শুকনো থাকে। পাত্রের মুখ সবসময় শক্ত করে আটকে রাখুন। যাতে বাইরের বাতাস বা জলীয় বাষ্প ভেতরে না ঢোকে। এতে পোকামাকড় হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।
ছবি: সংগৃহীত
বহুকাল ধরে গ্রামবাংলায় চাল সংরক্ষণে নিম পাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিম পাতার তীব্র তেতো গন্ধ এবং অ্যান্টি-সেপটিক গুণ পোকা তাড়াতে ওস্তাদ। চালের ড্রামের মধ্যে কয়েকটি শুকনো নিম পাতা দিয়ে রাখুন। এই গন্ধে চালের পোকা ধারেকাছে ঘেঁষার সাহস পাবে না। চাল এবং ডাল উভয় ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
যদি দেখেন চালে হালকা আর্দ্রতা ভাব আছে, তবে দেরি না করে কড়া রোদে দিন। সূর্যের আলো চালের ভেতরের আর্দ্রতা শুষে নেয়। মাসে অন্তত একবার চাল রোদে দিলে পোকা জন্মানোর ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া পোকা ধরে গেলেও চাল কিছুক্ষণ রোদে ছড়িয়ে রাখলে সেগুলো নিজে থেকেই পালিয়ে যায়। সংরক্ষণের আগে চাল পুরোপুরি ঠান্ডা করে তবেই পাত্রে ভরুন।
ছবি: সংগৃহীত
চালের ড্রামে ৮-১০টি লবঙ্গ বা এক মুঠো গোলমরিচ ছড়িয়ে দিন। লবঙ্গ ও গোলমরিচের কড়া গন্ধ পোকার বংশবৃদ্ধি রোধ করে। দীর্ঘ সময়ের জন্য চাল জমিয়ে রাখতে চাইলে এই পদ্ধতিটি সবচেয়ে কার্যকর। এতে চালের গুণমানও নষ্ট হয় না।
