হুট করে এলপিজি গ্যাসের গন্ধ নাকে এলে কার না বুক ছ্যাঁৎ করে ওঠে! প্রত্যেক গৃহস্থের কাছেই এ এক বড় আতঙ্ক। কিন্তু মনের ভুলে বা অসাবধানতায় যদি গ্যাস লিক করেই থাকে, তবে ভয় পেয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। উপস্থিত বুদ্ধি আর একটু সতর্কতা নিমেষেই রুখে দিতে পারে যেকোনও বড় বিপদ। মাথা ঠান্ডা রাখাই এসময় আপনার প্রথম কাজ। বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে কোন ৫টি ভুল একদম করবেন না? জেনে নিন।
প্রতীকী ছবি।
১) আলোর সুইচে হাত নয়: গ্যাসের গন্ধ পেলেই অন্ধকার দূর করতে ভুলেও আলো জ্বালবেন না। কিংবা শোঁ শোঁ আওয়াজ বন্ধ করতে এক্সহস্ট ফ্যানের সুইচ অফ করতে যাবেন না। সুইচের সামান্যতম স্ফুলিঙ্গ বা স্পার্ক মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর পুড়িয়ে খাক করে দিতে পারে।
২) দেশলাই-লাইটার দূরে রাখুন: লিক কোথা থেকে হচ্ছে তা খুঁজতে ভুলেও দেশলাই, লাইটার বা মোমবাতি জ্বালাবেন না। আগুনের সামান্য শিখা পেলেই গ্যাস সিলিন্ডার বোমার মতো ফেটে যেতে পারে।
৩) মোবাইল ফোন দূরে রাখুন: ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে দেখার চেষ্টা করবেন না। এই সময়ে ফায়ার সার্ভিস বা গ্যাস অফিসে ফোন করতে গিয়েও বিপদ ডেকে আনবেন না। ফোনের ভাইব্রেশন বা ইলেকট্রনিক তরঙ্গের সামান্য স্পার্কেও ঘটতে পারে বড় বিস্ফোরণ।
৪) জুতো পরার ক্ষেত্রে সাবধান: রান্নাঘরে পায়ে দিয়ে হাঁটার খসখসে জুতো পরে তাড়াহুড়ো করবেন না। মেঝের সঙ্গে জুতোর ঘর্ষণে স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি বা স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে, যা আগুনের উৎস হতে পারে।
৫) মেইন সুইচ বন্ধ নয়: অনেকেই ভাবেন মেইন সুইচ বন্ধ করলে বিপদ কমবে। কিন্তু এই ভুলটি করবেন না। মেইন সুইচ অফ করার সময়ে যে বড় স্পার্ক তৈরি হয়, তা থেকেই দাউদাউ করে জ্বলে উঠতে পারে আগুন।
তবে কী করবেন?
আতঙ্কে দিশেহারা না হয়ে প্রথমে নাক-মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকুন। ঘরের সব জানলা-দরজা একে একে খুলে দিন, যাতে গ্যাস বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। চটজলদি সিলিন্ডারের রেগুলেটরটি বন্ধ করে দিন। যদি গন্ধ খুব তীব্র হয়, তবে আর এক মুহূর্তও ঘরের ভেতর থাকবেন না। দ্রুত সবাইকে নিয়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসুন।
