রোদঝলমলে দিনে এক গ্লাস ঠান্ডা শরবতে দু’-একটি পুদিনা পাতা পানীয়ে আলাদা স্বাদ তৈরি করে। আবার মুখরোচক চাটনিতে এর উপস্থিতি মন ও প্রাণ দুটোই জুড়োয়। শুধু স্বাদ বৃদ্ধিই নয়, পুদিনার ভেষজ গুণও অপরিসীম। কিন্তু বাজার থেকে বারবার কিনতে যাবেন কেন? নিজের বারান্দা বা ছাদবাগানেই বসাতে পারেন পুদিনার চারা। বর্ষার মরশুমে এই গাছ লাগালে চড়চড় করে বেড়ে ওঠে। কিন্তু সামান্য অসর্তকতায় নষ্ট হতে পারে পুদিনা চারা। বাড়িতে পুদিনা চাষ করতে চাইলে কী করবেন? ধাপে ধাপে বুঝে নিন।
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে চারা তৈরি করবেন?
টব না থাকলেও কুচ পরোয়া নেই। কাচ বা প্লাস্টিকের পাত্রেই ফলবে এই ভেষজ উদ্ভিদ। কয়েকটি পুদিনার ডাঁটি একসঙ্গে সুতো দিয়ে বেঁধে নিন। এরপর বোতলে অর্ধেক জল দিয়ে সেই ডাঁটিগুলো ডুবিয়ে রাখুন। পাত্রটি রাখুন এমন জায়গায়, যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আর হালকা রোদের ছোঁয়া মেলে। দেখা যাবে, মাত্র দুই-তিন দিনেই ডাঁটির নীচ থেকে কচি শিকড় গজাতে শুরু করেছে। তবে খেয়াল রাখবেন, প্রতি ৭ থেকে ১০ দিন অন্তর বোতলের জল বদলে ফেলা অত্যন্ত জরুরি।
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে চাষ করবেন?
মাটিতে চাষ করতে চাইলে প্রথমেই ১০ থেকে ১২ ইঞ্চির একটি টব বেছে নিন। গোবর সার বা অন্য কোনও জৈব সার দিয়ে মাটি তৈরি করে নিন। মাটি যেন ঝুরঝুরে হয়, সে দিকে নজর দেওয়া চাই। তৈরি করা মাটি দিনকয়েক রোদে শুকিয়ে টবে ফেলুন। তবে টবের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা যেন একদম সঠিক থাকে।
এবার শিকড়সহ কয়েকটি ডাল মাটিতে পুঁতে জল দিন। দিনে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা হালকা রোদ আসে, এমন স্থানে টবটি রাখা দরকার। টবের মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দেবেন, গাছের গোড়ায় যেন জল জমে না থাকে।
৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই টব ভরে উঠবে সতেজ পুদিনা পাতায়। গাছ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডগা ছেঁটে দিলে ডালপালা আরও ছড়িয়ে পড়ে। পাতা ঘন করতে মাসে একবার জৈব সার বা ভার্মিকম্পোস্ট দেওয়া যেতে পারে।
পাতার গুণ, স্বাস্থ্যের যত্ন
রান্নার স্বাদ বাড়ানো ছাড়াও পুদিনার গুণ অপরিসীম।
- হজমে সাহায্য: বদহজম, পেট ফাঁপা ও গ্যাসের সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি দেয়।
- মুখের দুর্গন্ধ দূর: মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষা ও দুর্গন্ধ দূর করতে এর জুড়ি নেই।
- সর্দি-কাশিতে স্বস্তি: পুদিনায় থাকা প্রাকৃতিক মেন্থল বন্ধ নাক খুলতে সাহায্য করে।
- রোগ প্রতিরোধ: এর প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের নানা রোগের ঝুঁকি কমায়।
