গরমে একফোঁটা স্বস্তি নেই। চাতক পাখির মতো বৃষ্টির অপেক্ষা। গোটা বঙ্গজুড়ে খামখেয়ালি আবহাওয়া। তীব্র গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত আমজনতার। কিন্তু এতে শুধু কি মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে? আনাজপাতির ঝুড়ির দিকে তাকালে বুক ফেটে যাচ্ছে মধ্যবিত্তের। সকালে বাজার থেকে যে পটল-ঝিঙে এল গটগট করে, বিকেলেই যেন তারা সব ‘আইসিইউ’-তে! গরমে নিমেষেই শুকিয়ে যাচ্ছে আনাজপাতি। কালচে হয়ে পচে যাচ্ছে কাঁচালঙ্কাও।
পকেটের রেস্ত খসিয়ে বাজার করার পর যদি সবজি এমন করে নষ্ট হয়, তবে গৃহস্থের মাথায় হাত পড়া স্বাভাবিক নয় কি! অতিরিক্ত গরম আর গুমোট আর্দ্রতার কারণে এই বিপত্তি। ব্যাকটিরিয়া আর ছত্রাক যেন ওত পেতে বসে আছে। তবে চিন্তা নেই। মুশকিল আসান করতে ময়দানে নেমেছে ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (FSSAI)। এই তীব্র দাবদাহে আনাজপাতি তাজা রাখার মোক্ষম তিনটি দাওয়াই বাতলেছে তারা। জেনে নিন সেই জাদুটোটকা।
ছবি: সংগৃহীত
১. জল নয়, শুকনোই শ্রেয়
অনেকেরই অভ্যাস, বাজার থেকে ফিরেই সবজি ধুয়ে সটান ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়া। FSSAI বলছে, এই ভুলটি ভুলেও করবেন না। সবজির গায়ে লেগে থাকা জল পচন ধরানোর প্রধান অনুঘটক। তাই বাজার থেকে আনাজ এনে আগে ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর জল ঝরিয়ে ফ্যানের তলায় রেখে পুরোপুরি শুকিয়ে নিন। দরকার হলে শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে মুছে তবেই তুলুন।
ছবি: সংগৃহীত
২. পেপার তোয়ালের ম্যাজিক
শাক বা ধনেপাতা দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে জুড়ি নেই পেপার তোয়ালের। সবজির নিজস্ব একটা আর্দ্রতা থাকে। পেপার তোয়ালে বা ব্লটিং পেপার সেই বাড়তি জলটুকু শুষে নেয়। ফলে পাতা পচে গলে যায় না। তবে খবরদার, খবরের কাগজ ব্যবহার করবেন না! খবরের কাগজের রাসায়নিক কালি পেটে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
৩. প্লাস্টিককে ‘না’ বলুন, নেটকে ‘হ্যাঁ’
বাজার থেকে আনা প্লাস্টিকের প্যাকেটে সবজি পুরে রাখছেন? আজই অভ্যাস বদলান। প্লাস্টিকের ভেতর বাতাস চলাচল করতে পারে না। ফলে সবজি থেকে বেরোনো বাষ্প ভেতরেই জমে জল হয়ে যায়। আর তাতেই পচন ধরে দ্রুত। এর চেয়ে বাজার থেকে নেট বা জালের ব্যাগ কিনে আনুন। নেটের ব্যাগে বাতাস চলাচল ঠিক থাকে। আনাজপাতির দম বন্ধ হয় না। ফলে তারা থাকে দীর্ঘক্ষণ চনমনে।
