ক্যালেন্ডার বলছে মার্চ মাস শেষ। কালবৈশাখী মাঝেমধ্যে দাপট দেখালেও গরমে হাসফাঁস দশা আমজনতার। ঘর থেকে বেরতে না বেরতেই নাভিশ্বাস উঠছে সকলের। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কয়েকদিনেই তাপমাত্রা পেরবে ৪০ এর গণ্ডি। এই চড়া রোদে নিজেদের সুস্থ রাখার টেকনিক তো সকলেরই কমবেশি জানা, কিন্তু কী হবে চারপেয়েদের? চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক তীব্র দাবদাহে কীভাবে যত্ন নিতে হবে পোষ্যের।
১. পোষ্যদের শরীর থেকে অত্যন্ত দ্রুত বেরিয়ে যায় তরল। যা যে কারও ধারণারও বাইরে। ফলে গরমকালে ওদের অসুস্থ হয়ে পড়াই স্বাভাবিক। তাই চেষ্টা করুন ওদের তুলনামূলক শীতল পরিবেশে রাখার। ঠান্ডা জলের ব্যবস্থা রাখুন। খাবারে তরলের পরিমাণ বাড়াতে পারেন, যাতে শরীরে জলের ঘাটতি না হয়।
প্রতীকী ছবি।
২. বদল আনুন খাওয়ানোর সময়ে। চেষ্টা করুন খুব সকালে অর্থাৎ চড়া রোদ ওঠার আগে ও সূর্যাস্তের পর খাওয়ানোর। কারণ প্রচণ্ড গরমে ভারী খাবার হজম প্রক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়। চেষ্টা করুন একসঙ্গে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে খাবার দেওয়ার।
৩. চড়া রোদে যদি পোষ্যকে বের করতেই হয় সেক্ষেত্রে মাটির উষ্ণতা দেখে নিন। যদি পাঁচ সেকেন্ড আপনার হাতের তালু সেই তাপমাত্রা সহ্য করতে না পারে তাহলে বুঝে নেবেন সেটা ওদের জন্য অত্যন্ত বেশি। তবে চেষ্টা করবেন সূর্যাস্তের আগে বাইরে না বের করার। পায়ের তলায় অর্থাৎ থাম্বপ্যাডে ব্যবহার করুন মলম।
৪. মাথায় রাখবেন, ওদেরও কিন্তু হিটস্ট্রোক হয়। তাই অতিরিক্ত হাঁপালে, লালা ঝরলে, বমি করলে, চোখ ঘোলাটে হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে শীতল জায়গায় নিয়ে যান। ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুড়িয়ে দিন। তৎক্ষণাৎ পশুচিকিৎসকের সাহায্য নিন।
৫. পোষ্যকে যে ঘরে রাখবেন দেখবেন সেখানে যেন সঠিকভাবে বায়ুচলাচল করতে পারেন। ফ্যান, এসি বা কুলারের কাছাকাছি রাখুন। দেখবেন চড়া রোদের সময় যেন সর্বদা যেন পর্দা দেওয়া থাকে ঘরে।
৬. অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় অতিরিক্ত লোমশ কুকুরদের গরমে স্বস্তি দিতে মালিকেরা পশম কেটে দেয়। এটা কিন্তু মারাত্মক ভুল। এতে আদতে ওদের ক্ষতি হয়। কারণ ওদের লোম আসলে তাপ থেকে ওদের রক্ষা করে।
কী করবেন না?
- ভুলেও দীর্ঘক্ষণ রোদে পার্ক করে রাখা গাড়িতে পোষ্যকে তুলবেন না
- সকাল ১১ টা থেকে ৫ টার মধ্যে বাইরে নিয়ে বেরবেন না
- আচরণে কোনওরকম পরিবর্তন দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
