রান্নাঘর মানে শুধু রসনা তৃপ্তির জায়গা নয়। চিনা বস্তশাস্ত্র ফেংশুই মতে, এটি হল গৃহের মূল চালিকাশক্তির উৎস। তাই সুস্বাস্থ্য আর সমৃদ্ধি পেতে হেঁশেল সাজাতে হবে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে। বাস্তুবিদদের মতে, রান্নাঘরের পরিবেশের ওপর নির্ভর করে পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। ইতিবাচক শক্তি বা ‘পজিটিভ চি’ বাড়াতে রান্নাঘরে সামান্য কিছু বদল আনলেই ফিরতে পারে ভাগ্য। অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে সৌভাগ্যকে আহ্বান করতে হলে এই কাজগুলি বাস্তুরীতি মেনে করুন। কী করবেন?
১) রান্নাঘরের ডাইনিং টেবিলে সব সময় এক ঝুড়ি টাটকা ফল রাখার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে কমলালেবু বা লেবু জাতীয় ফল রাখা খুব শুভ। বাস্তু শাস্ত্র বলছে, গোল এবং উজ্জ্বল বর্ণের ফল সমৃদ্ধির প্রতীক, যা সংসারে প্রাচুর্য ডেকে আনে। ফলের এই সজীবতা রান্নাঘরের নেতিবাচক শক্তিকে দূরে সরিয়ে রাখে।
ফাইল ছবি
২) হেঁশেলের জানলার ধারে ছোট ছোট টবে ইন্ডোর প্ল্যান্ট রাখতে পারেন। মানিপ্ল্যান্ট, তুলসী বা জেড প্ল্যান্টের মতো গাছ ঘরের বাতাস শুদ্ধ করার পাশাপাশি কাঠের উপাদানকে (উড এলিমেন্ট) সক্রিয় করে। এতে পরিবারের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে এবং রান্নার সময় মনও ফুরফুরে থাকে।
ফাইল ছবি
৩) প্লাস্টিকের বদলে রান্নার কাজে কাঠের হাতা, খুন্তি বা চপিং বোর্ড ব্যবহার করা বেশি ফলদায়ী। কাঠ আগুনের উত্তাপকে শান্ত করে এবং স্থায়িত্ব নিয়ে আসে। রান্নার জায়গায় সাজিয়ে রাখা কাঠের সরঞ্জাম সৃজনশীলতা বাড়াতেও সাহায্য করে।
ফাইল ছবি
৪) রান্নাঘর কখনও ঘুটঘুটে অন্ধকার রাখবেন না। রাতেও ক্যাবিনেটের নিচে হালকা বা ‘নাইট লাইট’ জ্বালিয়ে রাখা ভালো। উজ্জ্বল আলো গৃহে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বজায় রাখে।
ফাইল ছবি
বাস্তু মতে, উনুন (অগ্নি) এবং সিঙ্ক (জল) যেন খুব কাছাকাছি না থাকে। আগুনের পাশেই জলের অবস্থান সংসারে অশান্তি ডেকে আনতে পারে। জায়গা কম হলে উভয়ের মাঝে একটি ছোট কাঠের বাধা বা সবুজ গাছ রেখে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব। মনে রাখবেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রান্নাঘরই হল লক্ষ্মীলাভের মূল চাবিকাঠি। তাই অযথা অপ্রয়োজনীয় বাসন বা নোংরা জমিয়ে রাখবেন না। ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলিই আপনার হেঁশেলকে করে তুলবে প্রাণবন্ত। গৃহ হবে শান্তির নীড়।
