সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন? মাসের শেষে পকেটে টান পড়ছে? কঠোর পরিশ্রম করেও সঞ্চয় হচ্ছে না? অনেক সময় দেখা যায়, আয় প্রচুর হলেও ব্যয়ের বহর সামলানো দায় হয়ে পড়ে। মধ্যবিত্ত বাঙালির সঞ্চয়ের চিরাচরিত অভ্যাস হল লক্ষ্মীর ভাঁড়। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, কেবল ভাঁড়ে টাকা রাখলেই হয় না, বাস্তুশাস্ত্র মেনে সঠিক দিকে তা রাখা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই আপনার ভাঁড় হয়ে উঠতে পারে কুবেরের ধনভাণ্ডার।
ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মী আসবে কোন দিকে?
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়িতে মাটির ভাঁড় রাখার সেরা জায়গা হল উত্তর দিক। শাস্ত্র অনুযায়ী, উত্তর দিক হল ধনসম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবতা কুবেরের স্থান। এই দিকে মাটির ভাঁড় রাখলে পরিবারে অর্থ আসার পথ সুগম হয় এবং জমানো টাকা অকারণে খরচ হয় না। এছাড়া পূর্ব দিককেও অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বাড়ির পূর্ব কোণে ভাঁড় রাখলে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার ঘটে। এর ফলে মানসিক শান্তি বজায় থাকে এবং আর্থিক স্থিতি মজবুত হয়।
কোথায় ও কীভাবে রাখবেন?
টাকা জমানোর এই পাত্রটি যেনতেন প্রকারে কোথাও ফেলে রাখবেন না। ভাঁড়টি সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে রাখা উচিত। মনে রাখবেন, ভাঁড় কখনওই সম্পূর্ণ খালি রাখা অশুভ। সামান্য দু-একটি কয়েন হলেও সবসময় ভাঁড়ের ভেতরে রাখুন। সবথেকে ভালো হয় যদি শোওয়ার ঘরের আলমারি বা লকারের কাছে এটি রাখা যায়। এতে সঞ্চয়ের প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ফাইল ছবি
কোন ভুল এড়িয়ে চলবেন?
ভুল দিকে ভাঁড় রাখলে হিতে বিপরীত হতে পারে। দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে মাটির ভাঁড় রাখা বাস্তুমতে একদমই অনুচিত। এতে ঋণের বোঝা বাড়তে পারে। এছাড়া রান্নাঘর বা বাথরুমের আশেপাশে ভুলেও এই পাত্র রাখবেন না। ভাঁড় যদি সামান্য ফেটে যায় বা ভেঙে যায়, তবে তা তৎক্ষণাৎ বদলে ফেলুন। নোংরা বা ভাঙা পাত্রে লক্ষ্মী অবস্থান করেন না।
সঞ্চয় বৃদ্ধির সহজ উপায়
গৃহস্থালির এই ছোট ছোট অভ্যাসই বদলে দিতে পারে আপনার ভাগ্য। প্রতি সপ্তাহে অন্তত নির্দিষ্ট পরিমাণ কিছু টাকা ভাঁড়ে রাখার অভ্যাস করুন। এতে সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি হয়। সম্ভব হলে লাল বা হলুদ রঙের মাটির ভাঁড় ব্যবহার করুন, কারণ এই রঙগুলি শুভ শক্তির প্রতীক। অনেকে আবার শুভ দিন দেখে ভাঁড় থেকে টাকা বের করেন, যা অত্যন্ত ফলদায়ক হতে পারে।
