জ্যৈষ্ঠের দুপুরে চড়া রোদ। ঘামে জবজবে শরীর। বাজার থেকে ফিরলেন ভজাবাবু। ফিরেই তড়িঘড়ি গিন্নির হাতে দিলেন আমের থলে। ব্যাগের ভিতর হিমসাগর, ল্যাঙড়া। চারপাশ ম-ম করছে গন্ধে। গিন্নি কিন্তু ভয় খেলেন খানিক। যদি আম নষ্ট হয়ে যায়? যেমন ভাবা তেমনি তড়িঘড়ি চালান করে দিলেন ফ্রিজের ভিতর। ভাবলেন, এতেই বুঝি সুরক্ষিত থাকবে সাধের আম। ঠিক এই ভুলটিই আপনিও করছেন না তো?
ফাইল ছবি
বাজার থেকে এনেই ফ্রিজে রাখবেন না
আম আদতে ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফল। তার স্বভাব-চরিত্র গড়ে উঠেছে গরমের আবহে। তাই তাকে নিজের ছন্দে পাকতে দিতে হয়। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাই আমের স্বাভাবিক পরিণতি ঘটায়। কিন্তু কাঁচা বা আধপাকা আম বাজার থেকে এনেই যদি হিমঘরে বন্দি করেন, তবে তার পাক ধরার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি মাঝপথেই থমকে যেতে বাধ্য। শীতল পরশে আমের ভেতরের রূপান্তর বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যা হওয়ার, তাই হয়। অনেক সময় দেখা যায়, খোসাটি চমৎকার হলুদ হয়েছে, কিন্তু কাটতেই ভেতর থেকে বেরল টক ও শক্ত শাঁস। চোখের সামনে তখন লোভনীয় ফলের বারোটা বেজে যায়।
ফাইল ছবি
আসলে আম পাকার সময়েই তার ভেতরে তৈরি হয় আসল মিষ্টত্ব ও মনমাতানো সুবাস। অকালেই যদি তাকে ঠান্ডা আবহাওয়ায় বন্দি করা হয়, তবে সেই সুঘ্রাণ ও স্বাদ অধরাই থেকে যায়। শুধু কি তাই? আমের মোলায়েম ও মাখনের মতো মসৃণ গঠনও নষ্ট হতে বাধ্য। আপনার অজান্তেই সাধের ফলটি ফ্রিজের ভেতরে ছিবড়ে হয়ে যেতে পারে।
তাহলে উপায় কী?
আম ঘরে এনেই ফ্রিজে ঢোকাবেন না। আগে তাকে চিনুন। আমের গায়ে হালকা চাপ দিয়ে দেখুন। যদি নরম ঠেকে এবং বোঁটার কাছ থেকে চুঁইয়ে আসে তীব্র মিষ্টি গন্ধ, তবেই বুঝবেন আম এবার রসনা তৃপ্তির জন্য তৈরি। পুরোপুরি পেকে যাওয়ার পর তাকে ফ্রিজে রাখুন। তখন ঠান্ডা করলে ক্ষতি নেই, বরং কয়েক দিন তাজা থাকবে। অতিরিক্ত পাকার হাত থেকেও বাঁচবে। ফল কেনার পর এই সহজ নিয়মটুকু মানলেই পাতের আম পাতেই পড়বে।
