সারাদিন পরিশ্রমের পর সারারাত এয়ার কন্ডিশনারের হাওয়ায় আয়েশ করে ঘুমাতে ইচ্ছে করে। আবার দীর্ঘ সময় এসিতে থাকলে হাঁচি-কাশির ভয়ও থেকে যায়। ঘুমানোর সময় কী কী রাখেন ঘরে? গায়ে দেওয়ার কম্ফর্টার, জলের বোতল, মোবাইল ফোন, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র... জলের বালতি (bucket of water) রাখেন কি? বিশেষজ্ঞরা কিন্তু জানাচ্ছেন, এসি চালিয়ে ঘুমাতে চাইলে, ঘরে জল ভরা বালতি রাখা খুবই জরুরি। নানা রোগের সম্ভাবনা আটকে দিতে পারে এই অতিসাধারণ ঘরোয়া টোটকা! কীভাবে? জেনে নেওয়া যাক।
এসি ঘরে বালতি ভরে জল রাখলে ঘুম গভীর হয়।
১। গ্রীষ্মকালের বাতাসে আর্দ্রতা রয়েছে, সহজেই শরীর ঘামে ভিজে ওঠে। জামা ভিজে লেপ্টে যায় গায়ের সঙ্গে। এয়ার কন্ডিশনার বাতাসের জলীয়ভাব শুষে নেয়। তবে তা এতটাই বেশি মাত্রায়, যে মানুষের শরীরও শুষ্ক হয়ে ওঠে। ঠোঁট ফেটে যায়, ত্বকের স্বাভাবিক কোমলতা চলে যায় একেবারেই। এমনকী চোখজ্বালা করতে পারে, গলাও বারবার শুকিয়ে যেতে পারে। ঘরের মধ্যে জল রাখলে, সমস্ত আর্দ্রতা একদফায় শুকিয়ে যায় না, ফলে মানবশরীরের জলীয়ভাবও বজায় থাকে।
২। বালতিতে থাকা জল প্রাকৃতিক হিউমিডিফায়ারের কাজ করে। ফলে এসির হাওয়ায় সারা রাত শোয়ার পরেও ত্বকের কোমলতা অক্ষুণ্ণ থাকে। শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। হাঁচি-কাশির সমস্যা দেখা যায় না বললেই চলে। এমনকী ঘুম অনেক বেশি গভীর হয়। ফলে সকালে শরীর ঝরঝরে লাগে।
৩। শুধু শরীর নয়, এসির ক্ষর হাওয়া ক্ষতি করে ঘরের আসবাবপত্রেরও। কাঠের আসবাবে ফাটল ধরতে পারে। ঘরে ইন্ডোর প্ল্যান্ট থাকলে, অল্প সময়েই প্রাণহীন হয়ে পড়তে পারে। এসি ঘরে থাকা জলের বালতি হিউমিডিফায়ার হিসেবে কাজ করে এই সবের ক্ষেত্রেই। আসবাবের ক্ষতি হয় না, গাছও শুকিয়ে যায় না।
জলে মেশানো যায় গোলাপের পাপড়ি, পাতিলেবুর খোসা অথবা এসেনশিয়াল অয়েল।
কীভাবে রাখবেন বালতি?
ঘরের কোনও এক কোনা বেছে নিন। বন্ধ জানলার সামনেও রাখা যেতে পারে। মাঝারি মাপের বালতি জলে ভর্তি করুন। উপরে ছড়িয়ে দিতে পারেন কয়েক বিন্দু এসেনশিয়াল অয়েল। যে অয়েল দেবেন, তার গন্ধ হাওয়ায় মিশে ছড়িয়ে পড়বে সারা ঘরে। যেমন, নিম অয়েল দিলে, ঘরে পোকামাকড়ের উপদ্রব কমবে। ক্যামোমাইল অয়েল দিলে, ঘুম ভালো হয়। এসব ছাড়া পাতিলেবুর খোসা অথবা গোলাপের পাপড়িও দেওয়া যায়। তবে নিয়মিত এই জল বদলাতে হবে। নয়তো তার মধ্যে মশা জন্মাতে পারে!
