মাঝেমধ্যে বৃষ্টি, নয়তো প্যাচপ্যাচে গরম। আর এই দুইয়ের মাঝে পড়ে ঘর ভরে উঠছে স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধে। ভিজে জামাকাপড় ঠিকমতো শুকাচ্ছে না। জানলা খুলে রাখলেই আবার পোকামাকড়ের বাড়বাড়ন্ত।
তবে এমন সমস্যা নতুন নয়। যুগ যুগ ধরেই বর্ষাকালের আগমনে এমন অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে গৃহস্থকে। এই আপাত কঠিন ঝামেলার সহজ সমাধান রয়েছে বাঙালির রান্নাঘরেই। তাও আবার সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়, এমন জিনিস কাজে লাগিয়ে মিলবে নিস্তার।
লেবুর ফালি চিপে নিয়ে তার ছিবড়ে এমনিতে ফেলেই দিই আমরা। অথচ এই ক্ষেত্রে কাজে আসবে তা-ই। সঙ্গে যদি ৫-৬টি লবঙ্গ পাওয়া যায়, তবে সোনায় সোহাগা (Burning lemon peels and cloves)! বহু প্রাচীন সভ্যতাতেই সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ধূপ, সুগন্ধি কাঠ কিংবা লবঙ্গ পোড়ানোর রীতি ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য, চীন এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে বিশ্বাস ছিল যে, প্রাকৃতিক সুগন্ধ শুধু পরিবেশকে মনোরম করে তাই নয়, মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়। প্রাচীন ইউরোপে মনে করা হত যে, ঘরে সুগন্ধী দেওয়া থাকলে, অশুভ শক্তি সেই ঘর এড়িয়ে চলে।
কৌটো ভর্তি লবঙ্গের ঢাকনা খুললে এক ঝাঁঝাল গন্ধ ধাক্কা মারবে নাকে, তার মূল কারণ 'ইউজেনল' নামের যৌগ। লবঙ্গ ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসজনিত সংক্রমণ রোধ করে। ঘরে পোকামাকড়ের আসা কমায়। তাই আধুনিক কীটনাশক বা স্প্রে আবিষ্কারের অনেক আগে মানুষ মশা ও পোকামাকড় তাড়াতে লবঙ্গ ব্যবহার করত।
অন্যদিকে, লেবুর খোসার তেলে থাকে 'ডি-লিমোনিন' নামের যৌগ, যা সাইট্রাস সুগন্ধ দেয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, লেবুর এসেনশিয়াল অয়েল দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। সারাদিনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তির পর এমন প্রাকৃতিক সুগন্ধ স্বস্তি দেয়।
কীভাবে কার্যকর হবে এই পদ্ধতি?
মাটির পাত্র বা সরায় লেবুর ছিবড়ে ও ৪-৫টা লবঙ্গ একসঙ্গে নিয়ে, তাতে আগুন ধরিয়ে দিন। তা থেকে গন্ধ বেরোতে শুরু হলে, ধূপ বা ধুনো দেওয়ার মতো ঘর ও বারান্দায় সে গন্ধ ছড়িয়ে দিন। জানলায় নামিয়ে রাখতে পারেন কিছুক্ষণের জন্য। এই ঘরোয়া টোটকা এতই সহজ যে, চাইলেই করে দেখা যায় বাড়িতে।
কয়েকদিন মেনে চলতে পারলেই দূর হবে স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ। মশা-পোকার আসা কমবে। মন শান্ত হবে। ঘুমও হবে আগের চাইতে অনেক গভীর।
