গত ক'দিনে বেশ কয়েকবার হাত ফসকে কাচের জিনিস ভেঙেছে! ভেঙে টুকরো টুকরো হয়েছে নিমেষে? ভাঙতেই পারে। তা নিয়ে ভাবনার কী আছে? কিন্তু বারবার কেন কাচের জিনিস ভাঙছে তা ভেবে দেখেছেন কি? নিছক দুর্ঘটনা ভেবে আমরা এসব বিষয় এড়িয়ে যাই বটে। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্রে (Vastu Tips) এই ধরনের ঘটনার ভিন্ন তাৎপর্য রয়েছে। এই অঘটনের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে শুভ ও অশুভ বহু ইঙ্গিত।
ছবি: সংগৃহীত
(১) হঠাৎ কাচ ভেঙে যাওয়া সব সময় অমঙ্গলের প্রতীক নয়। গৃহস্থ বা পরিবারের সদস্যের ওপর যখন বড় কোনও বিপদ বা কুদৃষ্টি নেমে আসে, তখন কাচ সেই অমঙ্গল নিজে শুষে নেয়। অর্থাৎ, কাচ নিজে ভেঙে গিয়ে কোনও আসন্ন বড় বিপদকে প্রতিহত করে। হঠাৎ কোনও কাচের পাত্র ভেঙে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ এটি কোনও সংকট কাটারই সংকেত।
(২) একবার কাচ ভাঙা হয়তো স্বাভাবিক। কিন্তু আপনার সংসারে কি প্রায়শই কাচ ভেঙে চুরমার হচ্ছে? তবে সতর্ক হওয়ার দরকার। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বারবার কাচ ভাঙার অর্থ হল ঘরের ভেতরে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাস্তুত্রুটি থাকলে কিংবা পারিবারিক সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠলে এমনটা ঘটার আশঙ্কা বাড়ে। এটি ভবিষ্যতে আর্থিক টানাটানি কিংবা নতুন কোনও মানসিক অশান্তির পূর্বাভাস হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
(৩) কাচ ভাঙার পর অনেকেই যে ভুলটি করেন, তা হল চটজলদি সেই ভাঙা বা সামান্য চির ধরা জিনিসপত্র না ফেলে ঘরের কোণে জমিয়ে রাখেন। বাস্তুবিদদের মতে, ঘরে ভাঙা বা চির ধরা কাচ রাখা চরম বিপজ্জনক। এগুলো থেকে একধরনের নেতিবাচক তরঙ্গ নির্গত হয়, যা সংসারের সুখ-শান্তি নষ্ট করে। তাই কাচ ভাঙা মাত্রই তা ভালো করে মুড়ে বাস্তুর বাইরে ফেলে দিয়ে আসুন।
(৪) কাচের সঠিক ব্যবহার গৃহে সমৃদ্ধিও বয়ে আনতে পারে। সামান্য চিড় ধরা কাচের পাত্রে খাবার খাওয়া বা চা পান করা এড়িয়ে চলুন। এতে স্বাস্থ্যহানি ও আর্থিক ক্ষতি দুই-ই হতে পারে। তবে বাস্তু নিয়ম মেনে উত্তর বা পূর্ব দিকে কাচ বা আয়না রাখলে তা শুভফল দেয়। এতে অর্থাগম বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক স্থায়িত্ব বজায় থাকে।
ছবি: সংগৃহীত
তবে মনে রাখবেন, এই সমস্ত ঘটনাকে অন্ধবিশ্বাসের রূপ দেওয়া ঠিক নয়। ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা প্রয়োজন। অসাবধানতা বা বাচ্চাদের চঞ্চলতার কারণেও কাচ ভাঙতে পারে। তাই অতিরিক্ত সংশয়ে না ভুগে সতর্ক থাকুন। নিয়ম মেনে গৃহের ইতিবাচক শক্তি বজায় রাখুন।
