পরনে কি হলুদ পাঞ্জাবি? উসকোখুসকো চুল! রূপার খোঁজে মন ব্যাকুল? আপনি নিশ্চিত হুমায়ূনের ‘হিমু’! তবে এই ভরা বর্ষায় ছাতা ছাড়া বেরোলে রূপা তো দূর, বদলে নিউমোনিয়া এসে ধরা দেবে। মুশকিল হল, হিমুদের মতো উদাসীন স্বভাব যাদের, এই মরশুমে তাদের ছাতা হারানোর রেকর্ড ভাঙার খেলা শুরু হল বলে! বাস, ট্রেন কিংবা রাস্তার মোড়— ছাতা যেন এক একাকী যাযাবর। সুযোগ পেলেই সে আপনাকে ছেড়ে অন্য কারওর হাত ধরে!
পৃথিবীতে যদি সমস্ত হারানো জিনিসের এফআইআর করা যেত, তবে ছাতার নামই এক নম্বরে থাকত। বৃষ্টি থামলেই ছাতা ব্রাত্য। মনোবিদরা বলেন, অবচেতন মন প্রয়োজনের শেষে জিনিসের গুরুত্ব ভুলে যায়। তবে এই ধ্রুব সত্যকেও বদলে ফেলা সম্ভব। কীভাবে? এবার থেকে মেনে চলুন কয়েকটি সহজ ও মজাদার টোটকা, যাতে সাধের ছাতা আর পরবাসী না হয়।
ছবি: সংগৃহীত
ছাতা বাঁচানোর মোক্ষম দাওয়াই
(১) সস্তা ছাতা হারালে গায়ে লাগে না। তাই এবার একটু দামি, অন্তত ৫০০ টাকার কাছাকাছি সুন্দর ডিজাইনের ফোল্ডিং ছাতা কিনুন। টাকার মায়া বড় মায়া। দামি জিনিস সহজে মন থেকে উধাও হয় না। মনোবিজ্ঞান তেমনটাই বলে।
(২) সিনেমা হল বা রেস্তরাঁয় গিয়ে ছাতাটি পাশের ফাঁকা সিটে রাখবেন না। ওটিকে কোলবালিশের মতো কোলেই চেপে রাখুন। এক্ষেত্রে গার্লফ্রেন্ড গেলেও, ছাতাটি আপনাকে ছাড়বে না।
(৩) ছাতার ফিতেটি হাতঘড়ি, প্যান্টের বেল্ট কিংবা ব্যাগের স্ট্র্যাপের সঙ্গে গুঁজে রাখুন। ছাতা টান মারলে শরীর জানান দেবে।
(৪) ব্যাগে সবসময় একটা বড় পলিথিন প্যাকেট রাখুন। ভিজে ছাতা ভালো করে ঝেড়ে প্যাকেটে ভরে সোজা ব্যাগের ভেতর চালান করে দিন। হাতও ফাঁকা, ছাতাও সুরক্ষিত।
(৫) কারও বাড়ি বেড়াতে গেলে ছাতাটি এমন জায়গায় রাখুন, যা দরজার কাছাকাছি এবং ঘর থেকে স্পষ্ট দেখা যায়। বেরনোর সময় ওটাই আগে চোখে পড়বে। এতে সহজে ভুলে যাওয়ার সমস্যা থাকবে না।
