গ্রীষ্মকালের অন্ত নেই, এদিকে হরহামেশা লোডশেডিং। এমন অবস্থায় যদি কদিনের জন্য বাড়ির বাইরে থাকতে হয়, সবজি অথবা মাছ-মাংস ফ্রিজে রয়ে যেতে পারে। কিন্তু সেই কয়েকদিনের মধ্যে কতবার লোডশেডিং হয়েছে, তাও আবার কতক্ষণের জন্য, তা জানবেন কী করে?
যদি ঘন ঘন লোডশেডিং হয়, তবে ফ্রিজে রাখা খাবার বারবার ভিন্ন তাপমাত্রার সংস্পর্শে আসে। অর্থাৎ, ফ্রিজ বন্ধ হলে জমাট বাঁধা মাছ-মাংস সাধারণ তাপমাত্রায় চলে আসে। কারেন্ট ফিরে এলে আবারও জমে যায়। কিন্তু এমন হওয়ার ফলে, ভিতর ভিতর তা পচতে শুরু করে। সবজি কিংবা ফ্রিজে রাখা অন্যান্য জিনিসের ক্ষেত্রেও একই ঘটে। গৃহস্থ যখন ফিরে এসে সবজি কিংবা আমিষ রান্নার জন্য বের করেন, তখন দেখা যায় তা আর খাওয়ার অবস্থায় নেই।
গ্লাসের জল জমে বরফ হলে, উপরে বসিয়ে দিন ১ টাকার কয়েন।
আপনার অবর্তমানে ফ্রিজের অবস্থা কেমন ছিল তা বোঝার জন্য কাজে লাগাতে পারেন ‘কয়েন ট্রিক’, যার জন্য দরকার পড়বে কেবলমাত্র একটি ১ টাকার কয়েন (Rupee 1 trick)। একটি গ্লাস বা কাপে জল নিয়ে সেটি ডিপ ফ্রিজারের ভিতরে রেখে দিন। জল সম্পূর্ণরূপে বরফে পরিণত হলে, বরফের ওপর বসিয়ে দিন কয়েনটি। এরপর গ্লাস বা কাপটি আগের মতোই ফ্রিজারে রেখে দিন। যখন বাড়ি ফিরবেন, তখন শুধু কয়েনটির অবস্থান দেখলেই লোডশেডিং হয়েছিল কি না, তার ধারণা পাওয়া যাবে।
ফলাফল কীভাবে বুঝবেন?
কয়েনটি যদি বরফের একেবারে ওপরেই থাকে, তার অর্থ হল ভিতরের বরফ পুরোপুরি গলেনি। কারেন্ট চলে গিয়ে থাকলেও অল্প সময়েই ফিরে এসেছে। অর্থাৎ ফ্রিজারের তাপমাত্রা নিরাপদ সীমার মধ্যে ছিল।
কয়েনটি যদি বরফের মাঝামাঝি বা একেবারে নিচে চলে যায়, তবে বুঝতে হবে দীর্ঘ সময়ের জন্য কারেন্ট ছিল না। যে কারণে বরফ সমস্তটা গলে জল হয়ে গিয়েছিল। কারেন্ট আসার পর জল যখন আবার জমে যায়, তখন কয়েন রয়ে গিয়েছে গ্লাসের নিচে।
ফিরে যদি দেখেন কয়েন একই অবস্থায় রয়েছে, তবে চিন্তার কারণ থাকবে না।
কী করা যায় তবে?
দীর্ঘদিনের জন্য বাড়ির বাইরে থাকবেন জানলে, তার আগে মাছ-মাংস-সবজি ফ্রিজে যতটা সম্ভব স্টক না করাই ভালো। বিদ্যুৎজনিত যে কোনও সমস্যা থেকে বাঁচতে, বাড়ি থেকে লম্বা সময়ের জন্য বেরোনোর আগে ফ্রিজের মেইন সুইচ অফ করে দিন। যদি ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জেরবার হয়ে গিয়ে থাকেন, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী ইনভার্টার, ব্যাকআপ পাওয়ার বা জেনারেটরের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
