অগ্নিমূল্যের বাজারে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করল রান্নার গ্যাসের দাম। এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়ল গৃহস্থালির ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের জেরেই এই অবস্থা। ইতিমধ্যে সিলিন্ডার ছুঁয়েছে প্রায় হাজার টাকা। রান্নার গ্যাস কেনার হুড়োহুড়ি মূল্যবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে পকেটের টান সামলাতে গ্যাস সাশ্রয়ই এখন একমাত্র বিকল্প পথ।
ফাইল ছবি
রান্নাঘরে সামান্য কিছু রদবদল করলেই মাসের শেষে গ্যাসের খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস বাঁচানোর প্রথম ধাপ শুরু হয় বার্নার পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে। বার্নারে তেল বা কালি জমলে শিখার রং বদলে যায়। নীল শিখার বদলে যদি লাল বা হলুদ শিখা দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে গ্যাস অপচয় হচ্ছে। নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার রাখলে আগুনের তাপ ঠিক থাকে। পাশাপাশি, বড় বার্নারের তুলনায় ছোট বার্নার ব্যবহার করলে প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব।
রান্নার প্রস্তুতির ওপর গ্যাসের ব্যবহার অনেকাংশে নির্ভর করে। চাল, ডাল বা যে কোনও শস্য রান্নার অন্তত আধ ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রাখলে তা দ্রুত সেদ্ধ হয়। এতে আগুনের ব্যবহার কমে। রান্নার সময় পাত্র ঢেকে রাখা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকনা দিলে ভেতরের তাপ বাইরে বেরোতে পারে না, ফলে খাবার দ্রুত তৈরি হয়। রান্নার ক্ষেত্রে প্রেসার কুকারের ব্যবহার বাড়াতে পারলে জ্বালানি এবং সময় দুই-ই বাঁচে।
ফাইল ছবি
অনেকেই ফ্রিজ থেকে খাবার বের করেই সরাসরি আঁচে বসিয়ে দেন। এটি একটি ভুল পদ্ধতি। ঠান্ডা খাবার গরম হতে বা সেদ্ধ হতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় ও গ্যাস খরচ করে। তাই রান্নার কিছুক্ষণ আগে খাবার বের করে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনা জরুরি। এছাড়া, রান্নার শেষে ৪-৫ মিনিট আগে আঁচ বন্ধ করে পাত্র ঢেকে রাখুন। ভেতরের অবশিষ্ট তাপেই বাকি রান্নাটুকু সুসম্পন্ন হবে। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো রপ্ত করতে পারলে চড়া দামের বাজারেও হেঁশেল সামলানো কিছুটা সহজ হবে।
