বাগানের রানির মেজাজ বোঝা দায়। কখনও অযত্নেই সে হাসে, আবার কখনও প্রাণপণ পরিচর্যাতেও ঝিমিয়ে পড়ে। গোলাপ প্রেমীদের প্রধান মাথাব্যথা হল গাছের আচমকা শুকিয়ে যাওয়া। পাতায় কালো ছোপ কিংবা কুঁড়ি আসার আগেই ঝরে পড়া। এই সমস্যার মূলে রয়েছে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের হানা। এর জন্য অবশ্য ঘনঘন নার্সারি দৌড়নোর দরকার নেই। ঘরোয়া পাঁচ 'ম্যাজিক' টোটকাতেই এবার গোলাপ বাগান হয়ে উঠবে ঈর্ষণীয়।
ছবি: সংগৃহীত
মূলত আর্দ্রতা ও পর্যাপ্ত রোদের অভাবই গোলাপের প্রধান শত্রু। অতিরিক্ত জল দিলে বা ছায়াযুক্ত জায়গায় গাছ রাখলে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ে। যদি দেখেন পাতার নিচে সাদা পাউডারের মতো আস্তরণ বা আঠালো ভাব রয়েছে, তবে বুঝবেন গাছ আক্রান্ত।
মুক্তির ৫ অব্যর্থ উপায়
১) পোকামাকড় দমনে নিম তেলের বিকল্প নেই। এক লিটার ঈষদুষ্ণ জলে এক চামচ নিম তেল ও কয়েক ফোঁটা লিকুইড সোপ মিশিয়ে নিন। কড়া রোদে নয়, বিকেলের পর এই মিশ্রণ স্প্রে করুন। এতে গাছ রক্ষা পাবে।
২) টবের মাটিতে পিঁপড়ের উপদ্রব বা শিকড়ের পচন রুখতে হলুদগুঁড়ো মহৌষধি। টবের মাটি হালকা করে খুঁচিয়ে আধ চামচ হলুদ ছড়িয়ে দিন। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে মাটি জীবাণুমুক্ত রাখে।
৩) মিলিবাগের মতো নাছোড়বান্দা পোকা তাড়াতে এক লিটার জলে সামান্য বেকিং সোডা ও অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে স্প্রে করুন। তবে খেয়াল রাখবেন, মাসে দুবারের বেশি এটি ব্যবহার করলে মাটির pH ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
৪) ব্যবহৃত চা পাতা ধুয়ে শুকিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিন। এতে থাকা নাইট্রোজেন ও ট্যানিন ফুলের আকার বড় করে। পাশাপাশি পটাশিয়ামের জোগান দিতে কলার খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে দিন, যা কুঁড়ি ঝরা বন্ধ করবে।
৫) আক্রান্ত ডাল গাছে রাখা বিপজ্জাজনক। পোকা লাগা অংশ ছেঁটে ফেলে সেখানে অ্যালোভেরা জেল বা হলুদের প্রলেপ দিন। এতে সংক্রমণ ছড়াবে না এবং দ্রুত নতুন কুঁড়ি আসবে।
মনে রাখবেন, গোলাপ দিনে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা কড়া রোদ ভালোবাসে। মাটি শুকোলে তবেই জল দিন। রাসায়নিক বর্জন করে এই ঘরোয়া কৌশলেই আপনার বাগান হয়ে উঠবে সুগন্ধী স্বর্গ।
