বাড়ি বসে আয়েশ করছেন, আচমকা ফোনকল! আপনার শহরেই রয়েছে প্রিয়জন, আপনার বাড়ি কাছে জেনে দেখা করে যেতে চায়। মুহূর্তে মাথায় বাজ! সারা সপ্তাহের কাজের ব্যস্ততায় বাড়ির জিনিসপত্র যে একেবারে এলোমেলো। সে অবস্থায় নিজেরা থাকা গেলেও বাইরে থেকে আসা অতিথিকে তা দেখানো যায় কি? কিন্তু সময় বাঁধাধরা। ডিপক্লিন করার অবকাশ নেই। চটজলদি কী এমন করা যায় যাতে বাড়ি পরিষ্কার দেখাবে, আর অতিথিও এসে অপ্রস্তুত হয়ে পড়বেন না? রইল টিপস।
জিনিসের স্তূপে চোখ যাচ্ছে?
চোখের সামনেই যে জিনিসের স্তূপ রয়েছে, সবার আগে তা গুছানোর দরকার। চেয়ারের ওপর ডাঁই করা জামাকাপড়, টেবিলের ওপর বইয়ের স্তূপ অথবা ডাইনিং টেবিলের একপাশে জ্যামের শিশি, আচারের বয়াম, জলের বোতল— হাতে হাতে সরিয়ে ফেলুন সবার আগে। শুকনো রুমালে ধুলো ঝেড়ে নিন। এতেই অনেকখানি শ্বাস নেওয়ার যোগ্য লাগবে ঘরটিকে।
একগোছা টাটকা ফুল সাজিয়ে রাখুন ফ্লাওয়ার ভাসে
প্রাণবন্ত করে তুলুন ঘরকে
একগোছা টাটকা ফুল সাজিয়ে রাখুন ফ্লাওয়ার ভাসে। অতিথি যদি ফল ভালোবাসেন, বড় বাটি বা ঝুরি ফলে সাজিয়ে রাখতে পারেন ডাইনিং টেবিলের মাঝখানে। তাঁরা ফল না খেলেও, এমনটায় ক্ষতি নেই। বাড়তি রঙের ছোঁয়ায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে ঘর। টেবিল ক্লথ পালটে ফেলুন। সোফায় রাখা কুশনের কভার বদলান। ছোট ছোট পরিবর্তনেই ঘর নতুনের মতো হয়ে উঠবে।
সুরে-গন্ধে মন মেতে উঠুক
সাউন্ডবক্সে মৃদু মিউজিক চালিয়ে দিন, ঘরের কোনায় স্প্রে করুন ফুল-ফলের গন্ধযুক্ত রুমফ্রেশনার। যেকোনও নতুন জায়গায় গেলে সেখানকার সামগ্রিক পরিবেশ গভীরভাবে প্রভাবিত করে মানুষকে। এসব ছোটখাটো খুঁটিনাটি অতিথি আলাদা করে খেয়াল না করলেও, আপনার বাড়িতে আসার অভিজ্ঞতা বহুদিন মনে রয়ে যাবে তাঁর।
সোফায় রাখা কুশনের কভার বদলান
‘অতিথি’ হিসেবে কি আপনি খুশি?
মনে করুন আপনিই অতিথি! দরজায় দাঁড়িয়ে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখুন গোটা ঘরটাকে। কী চোখে পড়ছে প্রথমেই? এখনও কোনও ঘিঞ্জি কোনায় দৃষ্টি আটকাচ্ছে কি? নাকি ফুলের উজ্জ্বল রঙ, মৃদুমন্দ সুর মনকে শুরুতেই এক ভালোলাগার অনুভূতি এনে দিচ্ছে? ফার্স্ট ইমপ্রেশনই যে লাস্ট ইমপ্রেশন, সে কথা ভুললে চলবে না!
ঘরের কাজ, বাইরের কাজ সামলে রোজের ব্যস্ত জীবনে একেবারেই ফাঁক মেলে না গৃহসজ্জায় মন দেওয়ার। অতিথি আসার বাহানায় যদি সাজিয়ে তোলা যায় নিত্যদিনের আবাসটিকে, তাতে আর মন্দ কি?
