চারটে দেওয়াল। মাথার উপর একটা ছাদ। এই নিয়ে মানুষের জীবন। তবে সেই জীবন কতটা গোছানো তা কিন্তু নির্ভর করে গৃহসজ্জার উপর। কী বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে খুলেই বলা যাক। কোনও কোনও গৃহে যথেষ্ট চাকচিক্য, আসবাব ও শৌখিনতা থাকলেও লক্ষ্মীশ্রী নেই। সংসারে শান্তি ও সমৃদ্ধিই আসল কথা। যদি তা না থাকে তাহলে সব থেকেও কী যেন নেই! আর এখানেই ওঠে প্রশ্ন। তাহলে কি অন্দরমহলে শুভ শক্তির অভাব? হ্যাঁ, অভাব তো বটেই। তবে তা দূর করবেন কীভাবে? চিনা বাস্তুশাস্ত্র ফেংশুই মতে, ঘরের সাজসজ্জার উপর নির্ভর করে গৃহের সম্পদ ও সৌভাগ্য। অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে সৌভাগ্যকে আহ্বান করা সম্ভব। সঠিক দিকে সঠিক বস্তু বা ছবি রাখলে অর্থাগম যেমন বাড়ে, তেমনই সংসারে ফেরে শান্তি। কেবল শৌখিনতা নয়, শ্রীবৃদ্ধি ঘটাতে ফেংশুই মেনে বাড়িতে রাখবেন কোন ৫ জিনিস? জেনে নিন।
ছবি: সংগৃহীত
১) ফেংশুই শাস্ত্রে 'কই' মাছকে সমৃদ্ধি ও উন্নতির প্রতীক ধরা হয়। তবে এটি আমাদের পরিচিত দেশীয় ছোট কই মাছ নয়। চিনা বাস্তুশাস্ত্রে উল্লিখিত কই মাছ দেখতে অনেকটা গোল্ডফিশের মতো। এই মাছকে ‘কোই কার্প’ বলা হয়ে থাকে। বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে বা ড্রয়িং রুমে এই মাছের ছবি বা শো-পিস রাখা অত্যন্ত শুভ। এটি শুধু ঘরের শোভা বাড়ায় না, বরং থমকে যাওয়া অর্থকষ্ট দূর করে। লক্ষ্মী আগমনের পথ প্রশস্ত করে। অনেকে বাড়িতে অ্যাকোয়ারিয়াম রাখতে পারেন না। তাঁদের জন্য দেওয়ালে 'কই' মাছের শৈল্পিক ছবি বা ম্যুরাল ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
২) প্রাচীন বণিকদের বাণিজ্যতরীর আদলে তৈরি ‘ওয়েলথ শিপ’ বা সম্পদের জাহাজ বাড়িতে রাখা সৌভাগ্যের প্রতীক। তবে খেয়াল রাখবেন, জাহাজের অভিমুখ যেন সবসময় ঘরের ভেতরের দিকে হয়। এটি বাড়িতে সম্পদ প্রবেশের ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের শিল্পকর্মে সোনা বা উজ্জ্বল রঙের প্রাধান্য থাকলে তা দ্রুত আর্থিক উন্নতিতে সাহায্য করে।
ছবি: সংগৃহীত
৩) ফেংশুই অনুযায়ী ড্রাগন, ঘোড়া, হাতি বা তিন পা বিশিষ্ট ব্যাঙের মূর্তি বা ছবি গৃহস্থের জন্য অত্যন্ত মঙ্গলদায়ক। বিশেষ করে কাঠের বা ধাতুর তৈরি হাতির জোড়া বাড়ির প্রবেশদ্বারের দিকে মুখ করে রাখলে পরিবারে স্থায়িত্ব ও সুরক্ষা বজায় থাকে। আবার উড়ন্ত ঘোড়া বা ফিনিক্স পাখির ছবি সাফল্যের নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।
ছবি: সংগৃহীত
৪) বহমান জল মানেই বহমান সম্পদ। ঘরের দেওয়ালে ঝরনা বা প্রবহমান নদীর ছবি নেতিবাচক শক্তি দূর করে মন শান্ত রাখে। তবে ছবির জল যেন ঘরের বাইরের দিকে প্রবাহিত না হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। উত্তর দিকে এই ধরনের ছবি রাখলে কেরিয়ারে অভাবনীয় উন্নতি লক্ষ করা যায়।
ছবি: সংগৃহীত
৫) কর্মক্ষেত্রে বা বসার ঘরের ঠিক পেছনে সোনালি পাহাড়ের ছবি রাখা ভীষণ কার্যকর। এটি জীবনে স্থিতিশীলতা এবং শক্ত সমর্থনের প্রতীক। সোনালি আভা মাখা পাহাড়ের ছবি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং পদোন্নতিতে সহায়তা করে।
ছোট ছোট এই বদল আপনার অন্দরে পজিটিভ এনার্জি বা ‘চি’র প্রবাহ বাড়িয়ে দেবে। নিয়ম মেনে এই সামগ্রীগুলি সাজাতে পারলেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
