বাঙালির অন্নপূর্ণার ভাঁড়ারে টান পড়া কি কেবলই কপালের ফের? বাস্তুশাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রান্নাঘর থেকে ডাইনিং টেবিল— গৃহস্থের অগোচরে ঘটে চলা ছোট ছোট ত্রুটিই ডেকে আনতে পারে ঋণের পাহাড়। জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ এই ডাইনিং টেবিল কেবল আহারের জায়গা নয়, এটি পরিবারের শ্রীবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির অন্যতম কেন্দ্র। কিন্তু আমাদের অজান্তেই সেখানে জমতে থাকা আবর্জনা বা ভুল অভ্যাস লক্ষ্মীলাভের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
ছবি: সংগৃহীত
বাস্তুবিদদের মতে, ডাইনিং টেবিল সব সময় ঝকঝকে ও পরিপাটি রাখা উচিত। অনেকেরই অভ্যাস খাওয়ার পর এঁটো বাসন দীর্ঘক্ষণ টেবিলে ফেলে রাখা। এটি অত্যন্ত অমঙ্গলজনক। উচ্ছিষ্ট খাবারের স্তূপ থেকে জন্ম নেওয়া নেতিবাচক শক্তি সংসারে অশান্তি ও অভাবের ছায়া ফেলে। অনেকে আবার ডাইনিং টেবিলকে স্টোররুম বানিয়ে ফেলেন। ওষুধের ফাইল, পুরোনো খবরের কাগজ, ইলেকট্রিক বিল কিংবা অফিসের কাগজপত্র সেখানে স্তূপাকার করে রাখেন। এই অভ্যাস গৃহকর্তার মানসিক চাপ বাড়ায় এবং গৃহের পজিটিভ এনার্জির প্রবাহ রোধ করে। শাস্ত্র অনুযায়ী, ডাইনিং টেবিল মানেই অন্ন আর অন্ন মানেই লক্ষ্মী। সেখানে আবর্জনা বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ভিড় দারিদ্র্যের লক্ষণ।
ছবি: সংগৃহীত
আর্থিক টানাপড়েন এড়াতে তৈজসপত্রের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বাসনে সামান্য চিড় ধরলে বা ভাঙা অংশ থাকলে তা তৎক্ষণাৎ বর্জন করা উচিত। ভাঙা থালা বা বাটিতে আহার করলে বাস্তুদোষ প্রকট হয়, যা থেকে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি। পাশাপাশি ডাইনিং টেবিলের পাশে আয়না রাখার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। এমন ভাবে আয়না লাগানো দরকার যাতে খাবার খাওয়ার সময় তাতে খাবারের প্রতিফলন দেখা যায়। মনে করা হয়, এতে সমৃদ্ধি দ্বিগুণ হয়। তবে ভুল কোণে আয়না বসানো হিতে বিপরীত হতে পারে। বাড়ির ডাইনিং এলাকাটিকে কোনোভাবেই গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। প্রতিদিনের এই ছোট ছোট সর্তকতা ও পরিচ্ছন্নতাই সংসারে ফিরিয়ে আনতে পারে হারানো শ্রী। মনে রাখবেন, কেবল পরিশ্রম নয়, বাস্তুসম্মত জীবনযাপনই পারে অভাবের আগল আটকে সমৃদ্ধির দুয়ার খুলে দিতে।
