বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে সম্প্রতি সম্পন্ন হল আইইএমট্রনিক্স ২০২৬-এর ষষ্ঠ আসর। আইইএম-ইউইএম গ্রুপ এবং আমেরিকার স্মার্ট সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের ২৩টি দেশের প্রতিনিধিরা। মেকাট্রনিক্স, রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে এই সম্মেলনে মন্থন চলল টানা কয়েক দিন।
অনুষ্ঠানের মূল কাণ্ডারি তথা জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক কেনেথ টি ভি গ্র্যাটান তাঁর বক্তব্যে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে, আইইএম-ইউইএম গ্রুপের এই ধরনের উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে গবেষণার নতুন দিক খুলে দিচ্ছে। মূলত ভারত এবং ব্রিটেনের গবেষকদের মধ্যে সেতুবন্ধনই ছিল এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।
সম্মেলনে একঝাঁক বিশেষজ্ঞ তাঁদের গবেষণালব্ধ মতামত তুলে ধরেন। অধ্যাপক বলবীর বার্ন জোর দেন সফটওয়্যার সিস্টেমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর। অন্যদিকে অধ্যাপক মার্কো ডি রেনজো ভবিষ্যৎ টেলিকম ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি এবং যান্ত্রিক সূক্ষ্মতার মেলবন্ধন নিয়ে আশাবাদী অধ্যাপক ইমানুইল স্পাইরাকোস। অপটিক্যাল নেটওয়ার্কের গুরুত্ব এবং মাইক্রো-স্কেল ইলেকট্রনিক্সের টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে অধ্যাপক ডেম পলিনা বেভেল ও রেবেকা চ্যাংয়ের কথায়। বাস্তব জগতের জটিলতা মেটাতে সফট রোবোটিক্সের উপযোগিতা ব্যাখ্যা করেন অধ্যাপক হেলজ এ ওয়র্ডম্যান।
পুরো আয়োজনটির নেপথ্যে ছিলেন ইউইএম কলকাতার চ্যান্সেলর অধ্যাপক বনানী চক্রবর্তী এবং ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক সত্যজিৎ চক্রবর্তী। সত্যজিৎবাবু জানান, ইম্পেরিয়াল কলেজের মতো আঙিনায় এই সম্মেলন আয়োজনের মূল লক্ষ্যই হল আইইএম এবং ইউইএম-এর ছাত্রছাত্রীদের বিশ্বমানের গবেষকদের সান্নিধ্যে আনা। এর ফলে কয়েক হাজার পড়ুয়া সরাসরি উপকৃত হবেন। বিদেশের স্বনামধন্য অধ্যাপকরা আগামী দিনে আইইএম এবং ইউইএম ক্যাম্পাস পরিদর্শনে আসবেন, যা এখানকার গবেষণাকে আক্ষরিক অর্থেই আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে। এই সম্মেলন শুধুমাত্র একগুচ্ছ তথ্য আদান-প্রদান নয়, বরং আগামীর প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের জন্য এক শক্তিশালী গবেষণার করিডোর তৈরি করল। এর হাত ধরে বিশ্ব-উদ্ভাবনের মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম।
