'পুরানি জিনস অউর গিটার'। নব্বইয়ের এই গান আজও জনপ্রিয়। তবে, প্রসঙ্গ গানের জনপ্রিয়তা নয়, 'পুরানি জিনস' নিয়ে। আজ্ঞে হ্যাঁ। নতুন জিনস কিনে আনার কয়েক মাসের মধ্যেই ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে রং? ঠিক যে কালার দেখে শপিংমল থেকে কিনে এনেছিলেন, কয়েকবার কাচার পর সেই রং একদমই নিষ্প্রভ। দেখতে লাগছে যেন বহু পুরনো। আসলে জিনস এমন এক পোশাক যা টেকসই হলেও, যত্ন নেওয়ার ধরনে সামান্য ভুল হলেই মুশকিল। মূলত কাচা এবং শুকোনোর ভুলে খুব দ্রুত পছন্দের পোশাকটি মলিন হয়ে ওঠে। ঠিক কোন পথে হাঁটলে আপনার আলমারির জিনসগুলি বছরভর নতুনের মতো থাকবে, রইল তার কিছু সহজ টিপস।
ছবি: সংগৃহীত
১) প্রথমেই মনে রাখা প্রয়োজন, জিনস মানেই তা রোজ কাচতে হবে এমন নয়। অনেকেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে প্রতি বার ব্যবহারের পরেই জিনস কাচতে দিয়ে দেন। এই অভ্যাসই পোশাকের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। অন্তত ৪-৫ বার ব্যবহারের পর জিনস কাচুন। যদি কোথাও সামান্য দাগ লাগে, তবে পুরো জিনস না কেচে শুধু সেই অংশটুকু স্পট ক্লিনিং করে নিন। এতে কাপড়ের বুনন আলগা হয় না এবং রং দীর্ঘস্থায়ী হয়।
২) জিনস কাচার সময় তা উলটে নেওয়া জরুরি। আমরা সাধারণত পোশাকের বাইরের দিকটাই বেশি পরিষ্কার করি, কিন্তু জিনসের ক্ষেত্রে উলটো দিকটি বাইরে রেখে কাচলে ডিটারজেন্টের সরাসরি প্রভাব রঙের ওপর পড়ে না। ফলে আসল রং চটে যাওয়ার ভয় থাকে না। পোশাকের তন্তু রক্ষায় এই ছোট বদলটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
ছবি: সংগৃহীত
৩) জলের তাপমাত্রার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। ভুলেও জিনস পরিষ্কার করতে গরম জল ব্যবহার করবেন না। গরম জল জিনসের তন্তু সঙ্কুচিত করে দেয়, ফলে পোশাকটি মাপে ছোট হয়ে যেতে পারে। সব সময় সাধারণ তাপমাত্রার ঠান্ডা জল এবং মৃদু বা মাইল্ড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন। উগ্র ক্ষারযুক্ত সাবান জিনসের ক্ষতি করে।
৪) শেষে আসে শুকোনোর পালা। কড়া রোদে বেশিক্ষণ জিনস মেলে রাখলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিতে রং দ্রুত ফিকে হয়ে যায়। তাই সরাসরি রোদ এড়িয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে হাওয়া-বাতাসে জিনস শুকিয়ে নিন। এই সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার প্রিয় জিনসটি বহু বছর পরেও নতুনের মতোই দেখাবে।
