সনাতন ধর্মে বাস্তুশাস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। মনে করা হয়, গৃহের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে বাস্তুনিয়ম মেনে চলা জরুরি। অনেক সময় আমরা অজান্তেই এমন কিছু ভুল করে ফেলি, যার অশুভ প্রভাবে সংসারে অশান্তি ও অভাব নেমে আসে। বিশেষ করে পুজোর সামগ্রী বা পবিত্র কিছু জিনিস রাখার ক্ষেত্রে আগেভাগে আমাদের বিশেষ সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বাস্তুমতে, এমন পাঁচটি জিনিস রয়েছে যা সরাসরি মাটিতে রাখা ঘোরতর অন্যায়। এতে দেবতারা কুপিত হন এবং গৃহস্থের অমঙ্গল হয়।
প্রতীকী ছবি
শিবলিঙ্গ ও শালগ্রাম শিলা
বাস্তুবিদদের মতে, শিবলিঙ্গ ও শালগ্রাম শিলা অত্যন্ত পবিত্র। শিবলিঙ্গকে দেবাদিদেব মহাদেবের প্রতীক এবং শালগ্রামকে ভগবান বিষ্ণুর রূপ মনে করা হয়। এই দুটি জিনিস কখনওই সরাসরি মেঝেতে রাখা উচিত নয়। পুজোর ঘর পরিষ্কার করার সময় বা অন্য প্রয়োজনে এগুলি সর্বদা পরিষ্কার কাপড়, কাঠের সিংহাসন বা তামার পাত্রে রাখা বাঞ্ছনীয়। অন্যথায় ঘরে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বাড়ে। আধ্যাত্মিক অবমাননা হয়।
দেব-দেবীর মূর্তি ও শঙ্খ
মন্দির পরিষ্কার করার সময় আমরা অনেকেই বিগ্রহগুলি মাটিতে নামিয়ে রাখি। শাস্ত্রমতে এটি অত্যন্ত অশুভ। বিগ্রহ বা দেব-দেবীর ছবি সবসময় একটি উঁচু স্থান বা শুদ্ধ আসনের ওপর রাখা উচিত। একই নিয়ম প্রযোজ্য শঙ্খের ক্ষেত্রেও। মনে করা হয়, যে বাড়িতে শঙ্খ থাকে সেখানে মা লক্ষ্মীর বাস। শঙ্খ সরাসরি মাটিতে রাখলে দেবী রুষ্ট হন, যার ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়।
প্রতীকী ছবি
পুজোর প্রদীপ
অন্ধকার দূর করে আলোর বার্তা নিয়ে আসে প্রদীপ। পুজোর সময় প্রদীপ জ্বালানো শুভ শক্তির প্রতীক। কিন্তু এই প্রদীপ কখনওই সরাসরি মাটির সংস্পর্শে রাখা ঠিক নয়। প্রদীপ সবসময় একটি ছোট থালা বা স্ট্যান্ডের ওপর রাখা উচিত। এতে পুজোর পূর্ণ ফল লাভ করা সম্ভব হয়।
প্রতীকী ছবি
সোনার অলঙ্কার
সোনাকে মা লক্ষ্মীর স্বরূপ ধরা হয়। তাই সোনা বা সোনার গয়না ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানা জরুরি। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, সোনার অলঙ্কার কখনও মাটিতে রাখতে নেই। এমনকী পা বা গোড়ালি সংলগ্ন অঙ্গেও সোনা পরা অশুভ বলে গণ্য করা হয়। সোনার গয়না সবসময় পরিষ্কার কাপড়ে মুড়ে আলমারি বা বাক্সে যত্ন সহকারে রাখা উচিত।
