সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: SIR-এ বাংলায় বাদ যাবে কোটির বেশি মানুষের নাম। কারণ রাজ্য নাকি ‘অনুপ্রবেশকারী’তে ছেয়ে গিয়েছে। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে এমনটাই দাবি করেছিল বিজেপি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাংলায় যে পরিমাণ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে তার চেয়ে শতাংশের বিচারে অনেক বেশি ভোটারের নাম বাদ গেল যোগীর উত্তরপ্রদেশে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি উত্তরপ্রদেশও অনুপ্রবেশকারীতে ছেয়ে গিয়েছে? এই প্রশ্নই এবার তাড়া করবে গেরুয়া শিবিরকে।
হিসাব বলছে, যোগীরাজ্যে আনকালেক্টেড ফর্মের সংখ্যা ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটার। অর্থাৎ এই সংখ্যার ভোটার বাদ যাবেনই। পরে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে ২ কোটি ১৭ লক্ষ ভোটার স্থানান্তরিত, ৪৬ লক্ষ ভোটার মৃত, ২৫ লক্ষ ৪৭ হাজার ভোটার একাধিক জায়গায় নাম রেজিস্টার করে রেখেছিলেন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার যে স্থানান্তরিত হয়েছে, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার গেল কোথায়? তাহলে কি এরা ভুয়ো ভোটার ছিলেন?
বিজেপির অস্বস্তির কারণ আরও আছে। সেটা হল ভোটার বাদ পড়ার অঙ্ক। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত যা হিসাব তাতে বিজেপির গড় হিসাবে পরিচিত এলাকাগুলিতে বেশি নাম বাদ পড়ছে। তুলনায় অনেক কম নাম কাটা পড়ছে সংখ্যালঘু এলাকায়। তাৎপর্যপূর্ণ হল, ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার সংখ্যাটা সেইসব এলাকায় বেশি যেগুলি তথাকথিত বিজেপির গড় হিসাবে পরিচিত। এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়ার নিরিখে সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়তে পারে লখনউয়ে (৩০ শতাংশ)। এরপর আছে গাজিয়াবাদ, কানপুর, গৌতম বুদ্ধ নগর, মেরঠ, প্রয়াগরাজ, আগ্রা। এই সবকটি জেলা বিজেপির দুর্গ হিসাবে পরিচিত। অন্যদিকে যে সব জেলায় মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি সেগুলিতে নাম বাদের পরিমাণ অনেক কম। মোরাদাবাদ, রামপুর, সাহারানপুর, মুজফফরপুর, বিজনৌরের মতো জেলায় ভোটারের নাম বাদ পড়ার সংখ্যাটা ১৫-১৮ শতাংশের মধ্যে।
এই তথ্য বিজেপির জন্য রীতিমতো উদ্বেগের। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি বিধানসভায় গড়ে ৬০ হাজার করে ভোট কমছে বিজেপির। যা ভোট বাদ পড়ছে। সেটার বেশিরভাগই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নিজের পকেট ভোট।”
