বোড়ো এবং অন্য একটি জনজাতিদের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত অসমের কোকরাঝাড়। সোমবার রাতে একটি দুর্ঘটনার পর অশান্তি শুরু হয়। ওই গাড়ির চালকের মৃত্যু হয় গণপিটুনিতে। অন্যদিকে দুর্ঘটনায় আহত দু'জনের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়েছে মঙ্গলবার সকালে। এর পর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে দু’পক্ষ বিক্ষোভ শুরু করে। আক্রান্ত হয় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন একটি স্করপিও গাড়ি স্থানীয় দুই জনজাতি ব্যক্তিকে ধাক্কা মারে। কোকরাঝাড় থানার কারিগাঁও ফাঁড়ি এলাকায় মানসিংহ রোডে এই ঘটনা ঘটে। ওই গাড়িতে চালক-সহ তিন জন ছিলেন। স্থানীয়রা চলন্ত গাড়িটিতে পাথরবৃষ্টি শুরু করেন। এর ফলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। পার্শ্ববর্তী একটি গর্তে গিয়ে পড়েন। অভিযোগ, গাড়ি থেকে টেনে বের করা হয় চালক শিখনা জওয়ালাও বিস্মিতকে। গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় তাঁর। বাকিদের উপরেও চড়াও হয় স্থানীয় জনজাতি গোষ্ঠীর লোকেরা। শেষ নিরাপত্তারক্ষীরা উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাঁদের উদ্ধার করেন।
উল্লেখ্য, গাড়িটিতে থাকা তিন সওয়ারিই ছিলেন বোড়ো জনগোষ্ঠীর। যাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনায় আহত একজন সুনীল মুর্মুর মৃত্যু হয়েছে মঙ্গলবার সকালে। এর পরেই নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। জানা গিয়েছে, ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় থানা ঘেরাও করে। জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তারা। এর ফলে ওই রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার পর পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুঁড়তে বাধ্য হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন একটি স্করপিও গাড়ি স্থানীয় দুই জনজাতি ব্যক্তিকে ধাক্কা মারে।
একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার বেশ কয়েকটি ঘরবাড়িতে এবং একটি সরকারি অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি রুখতে এলাকায় র্যাফ নামিয়েছে অসম প্রশাসন। হিংসার দায় এখনও পর্যন্ত ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের চিহ্নিত করে ধরপাকড় চলছে। ঘৃণা ও গুজব নিয়ন্ত্রণে বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
