shono
Advertisement
Jharkhand

ঝাড়খণ্ডে আত্মসমর্পণ ২৫ মাও নেতার, হিংসার পথ ছেড়ে বেছে নিলেন 'নবজীবন'

ঝাড়খণ্ডের আরেক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ঝাড়খণ্ড জনমুক্তি পরিষদের ২ জন আত্মসমর্পণ করেছে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 01:46 PM May 21, 2026Updated: 02:11 PM May 21, 2026

দেশকে মাওবাদ-মুক্ত করার কঠিন শপথ নিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেইমতো ডেডলাইনও স্থির করেছিলেন - ৩১ মার্চ, ২০২৬। সেই লক্ষ্যপূরণে কেন্দ্র ৯৯ শতাংশই সফল বলা চলে। একদিকে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে যৌথবাহিনীর অপারেশন, অন্যদিকে সরকারের পুনর্বাসন প্যাকেজের ডাকে সাড়া দিয়ে একের পর এক মাওবাদী নেতানেত্রীর আত্মসমর্পণ - সাঁড়াশি পদ্ধতিতে ক্রমেই মাওবাদ-মুক্ত ভারতের লক্ষ্যে এগনো গিয়েছে। এসব সত্ত্বেও দেশের দুই রাজ্য - ছত্তিসগড় ও ঝাড়খণ্ডের কোনও কোনও জঙ্গলে সক্রিয় মাওবাদীরা। ঝাড়খণ্ড সরকারের নিজস্ব পুনর্বাসন প্যাকেজ 'অপারেশন নবজীবন'-এর ডাকে সাড়া দিয়ে ২৫ জন সশস্ত্র মাওবাদী নেতানেত্রী আত্মসমর্পণ করল। এরা সকলে সারান্ডার জঙ্গলে নিজেদের কার্যকলাপ চালাত। এছাড়া ঝাড়খণ্ডের আরেক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ঝাড়খণ্ড জনমুক্তি পরিষদের ২ জন আত্মসমর্পণ করেছে। এদের সকলের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী।

Advertisement

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কেন্দ্রের লাগাতার অপারেশনের পরও ঝাড়খণ্ডের সারান্ডার জঙ্গলে ৪০ থেকে ৪৫ জন মাওবাদী এখনও মরণপণ লড়াই করে চলেছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ বাংলার সদস্য। নজরকাড়া নাম মিসির বেসরা, অসীম দাস ওরফে আকাশ, রয়েছেন একদা অযোধ্যা স্কোয়াডের নেত্রী, বাঘমুন্ডির বাসিন্দা মীরা পাহাড়িয়াও।

সূত্রের খবর, আত্মসমর্পণকারী ২৫ মাওবাদী নেতানেত্রীর মধ্যে অন্তত ৫ জনের মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা করে। এদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য রাঁচির বাসিন্দা, মাওবাদী নেত্রী রেখা মুণ্ডা ওরফে জয়ন্তী। সারান্ডার জঙ্গলে একসময়ে দুর্ধর্ষ অপারেশন চালিয়েছে। বাকি চারজনের নাম - গাদী মুণ্ডা ওরফে গুলশন, নগেন্দ্র মুণ্ডা ওরফে প্রভাত, সাগেন আঙারিয়া, সুলেমান হাঁসদা ওরফে সুনি। ২৫ জনের মধ্যে মোট ১৩ জন সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের সাধারণ ক্যাডার। বাকিদের মধ্যে ৬ জন সাবজোনাল কমিটি এবং ৬ জন এরিয়া কমিটির সদস্য বলে জানা গিয়েছে। সকলেই পশ্চিম সিংভূমের চাইবাসা ও গিরিডির বাসিন্দা। এদের কাছ থেকে মোট ১৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ইনসাস, রাইফেল, দেশি পিস্তল ও প্রায় ২৮০০ রাউন্ড কার্তুজ। এছাড়া পাওয়া গিয়েছে ওয়াকিটকিও।অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড জনমুক্তি পরিষদের আত্মসমর্পণকারী ২ সদস্যের নাম শচীন বেগ ওরফে ইউজিন এবং শ্রবণ গোপ। এরা ঝাড়খণ্ডের গুমলার বাসিন্দা। এদের কাছ থেকে চারটি ম্যাগাজিন ও ১৩০ রাউন্ড গুলি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। 

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালে ঝাড়খণ্ড থেকে মোট ৪৪ জন সশস্ত্র মাওবাদী গ্রেপ্তার হয়েছে, পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ২২ জন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কেন্দ্রের লাগাতার অপারেশনের পরও ঝাড়খণ্ডের সারান্ডার জঙ্গলে ৪০ থেকে ৪৫ জন মাওবাদী এখনও মরণপণ লড়াই করে চলেছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ বাংলার সদস্য। নজরকাড়া নাম মিসির বেসরা, অসীম দাস ওরফে আকাশ, রয়েছেন একদা অযোধ্যা স্কোয়াডের নেত্রী, বাঘমুন্ডির আমকোচা গ্রামের বাসিন্দা মীরা পাহাড়িয়াও। তবে ঝাড়খণ্ডের উগ্রবাদী সংগঠন ঝাড়খন্ড জনমুক্তি পরিষদের
দু'জন আত্মসমর্পণ করলেও তৃতীয় প্রস্তুত কমিটি (টিপিসি) নামে আরেকটি বিপ্লবী সংগঠনের দাপট এখনও রয়ে গিয়েছে। এই সংগঠনটির অতীতে কার্যকলাপ ছিল পুরুলিয়ার সীমানাতেও।

ঝাড়খণ্ড সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাওবাদী দমনে লাগাতার অপারেশন চালাতে গিয়ে একাধিক কৌশল ছিল সরকারের। জঙ্গলের কোর এলাকা অর্থাৎ যেখানে মাওবাদীদের ডেরা, সেখানে ২১ টি অ্যাডভান্স ক্যাম্প লোকেশন ও ফরওয়ার্ড অপারেটিং ডেন তৈরি করেছিল। যার মাধ্যমে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অপারেশন চালানো এবং তাদের মূল স্রোতে ফেরানো - দুটি কাজই ফলপ্রসূ হয়েছে বলে দাবি।  

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement