পাক অধিকৃত কাশ্মীরে খতম পুলওয়ামা হামলার মূলচক্রী হামজা বুরহান। জানা যাচ্ছে, মুজাফ্ফরবাদে একদল অজ্ঞাত পরিচয় যুবক তাকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায়। এরপরই মৃত্যু তার। পুলওয়ামার বাসিন্দা হামজা 'ডাক্তার' নামে পরিচিত ছিল। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাকে জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত করে। হামজার আসল নাম আরজুমান্দ গুলজার দার। গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বেছে বেছে 'ভারতশত্রু'দের খতম করা হচ্ছে। কিন্তু এর নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে, সেটাই বড় প্রশ্ন।
পুলওয়ামার রত্নীপোরা এলাকার খারবাতপোরায় জন্মগ্রহণ করে হামজা। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য সে পাকিস্তানে পাড়ি দেয়। সেখানেই সে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-বদরে যোগ দেয়। কয়েকদিনের মধ্যে সে কমান্ডার পদে উন্নীত হয়। এরপর সে পুলওয়ামায় ফিরে আসে। সেখানেই সে যুবকদের মগজধোলাই করে জঙ্গি বানানোর কাজে নিয়োজিত হয়। জানা যায়, পুলওয়ামা থেকে শোপিয়ান পর্যন্ত হামজার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল। পুলওয়ামা হামলা ছাড়াও জম্মু ও কাশ্মীরে বেশ কিছু সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত ছিল হামজা।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা। প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪০ জন সেনা জওয়ান। পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। সেই হামলার দগদগে স্মৃতি এখনও টাটকা। ভারতের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস এই জঙ্গি হামলার নেপথ্যে প্রশাসনের ভূমিকা আজও প্রশ্নাতীত নয়। এত বড় হামলা কীভাবে ঘটল, এত বিস্ফোরক কীভাবে এল? এমন বহু প্রশ্ন নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে।
প্রসঙ্গত, অনেকেই এই ঘটনার সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন মিউনিখ হত্যাকাণ্ডের। ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’ নামের এক প্যালেস্তিনীয় জঙ্গি গোষ্ঠীর আটজন সদস্য মিলে হামলা চালায় ইজরায়েলি অ্যাথলিটদের উপর। একজন ওয়েটলিফটার ও একজন কুস্তি কোচকে ঘটনাস্থলেই খুন করে জঙ্গিরা। অপহরণ করে নেয় ৯ জনকে। তাঁদের মধ্যে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ছিলেন কোচরাও। সকলকে পণবন্দি রেখে জঙ্গিরা দাবি করে ইজরায়েলের হাতে বন্দি ২৩৪ জন পণবন্দিকে ছাড়লে তবেই মুক্তি দেওয়া হবে অপহৃতদের। গোটা বিশ্ব শিউরে উঠেছিল এই ঘটনায়। অলিম্পিকের ইতিহাসে এ একেবারে নজিরবিহীন। শেষপর্যন্ত বন্দিদের উদ্ধারে গুলির লড়াই শুরু করে জার্মানি (তখন পশ্চিম জার্মানি) পুলিশ। শেষপর্যন্ত আটজন জঙ্গির মধ্যে পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাকি ৯ পণবন্দি ও এক জার্মান পুলিশ অফিসারের মৃত্যু আটকানো যায়নি। সংক্ষেপে এই ঘটনাই ‘মিউনিখ ম্যাসাকার’ বলে পরিচিত। এই হত্যাকাণ্ডের বদলা নিতে ‘অপারেশন র্যাথ অফ গড’ বা ‘ঈশ্বরের ক্রোধ’ শুরু করেছিল ইজরায়েল। ইউরোপ-সহ বিশ্বজুড়ে প্যালেস্তিনীয় জঙ্গি সংগঠন ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’-এর নেতাদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করে ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ।
