দেশজুড়ে উন্নয়নের পরিকাঠামো নির্মাণের অংশ হিসাবে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় অগ্রগতির সাফল্য দাবি করে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। কেন্দ্র, রাজ্যে একই দল, অর্থাৎ বিজেপি ক্ষমতায় থাকলেই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নেতৃত্বে জোরকদমে উন্নয়ন একেবারে নিশ্চিত বলে সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে ২০২১-এ সাতটি নতুন বিমানবন্দর চালু হওয়া তারই নিদর্শন বলে দাবি করে আসছে বিজেপি। কিন্তু তারপর গত ৫ বছরে একে একে ৬টি বিমানবন্দরই বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) দায়ের করা পিটিশনের উত্তরে প্রকাশ। একমাত্র অযোধ্যা বিমানবন্দরই কার্যকর রয়েছে। বাকিগুলি স্তব্ধ। এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া আরটিআইয়ের প্রেক্ষিতে জানিয়েছে, ২০২১ থেকে সাতটি এয়ারপোর্টে বাণিজ্যিক উড়ান চালু হলেও ৬টিই তারা বন্ধ করে দিয়েছে।
তথ্য বলছে, কুশিনগর বিমানবন্দর উদ্বোধন হয়েছিল ২০২১-এর ২০ অক্টোবর। ২৬ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত সূচি অনুসারে বিমান ওঠানামা শুরু হয়। যদিও পরিষেবা বন্ধ হয় ২০২৩-এর নভেম্বরেই। কুশিনগর বিমানবন্দর সংলগ্ন রাস্তায় এখন গরু-ছাগল চরে বেড়াচ্ছে। আজমগড়, আলিগড়, চিত্রকূট, শ্রাবস্তী, মোরাদাবাদেও চালু হয়েছিল বিমানবন্দর। ২০২৪-এর মার্চে। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই থমকে যায় পরিষেবা। আজমগড়, চিত্রকূট বিমানবন্দর চালু ছিল মেরেকেটে ৮-৯ মাস। মোরাদাবাদে বিমান পরিষেবা বন্ধ হয় তিন মাসেই। শ্রাবস্তী, আলিগড়েও চালু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই পরিষেবা গুটিয়ে ফেলা হয়।
কুশিনগরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে প্রাথমিক পর্যায়ে বিরাট সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল। উদ্বোধনের পরই নিয়মিত ফ্লাইট আসা যাওয়া শুরু হয়। ২০২২-এর মার্চে সব চেয়ে বেশি উড়ান চলেছে। সেই মাসে ৫৪টি নির্ধারিত ফ্লাইট ওঠানামা করেছে। কিন্তু পরের বছর নভেম্বরেই সংখ্যাটা কমতে থাকে। নির্ধারিত পরিষেবা বন্ধ হওয়া শুরু হয়। একটা সময় মাত্র ৬টি ফ্লাইট চলত। ২০২৩-এর পর ২০২৪ ও ২০২৫-এর অধিকাংশ মাসেই নির্ধারিত ফ্লাইট কমতে কমতে শূন্যে এসে ঠেকে। নিয়মিত বিমান পরিষেবা স্তব্ধ হয় একটা সময়।
আরটিআই তথ্যে প্রকাশ, কুশিনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে মোট খরচ হয় আনুমানিক ৩২৭.৩০ কোটি টাকা। অপারেশন সংক্রান্ত খরচও অব্যাহত থাকে। ২০২৩-’২৪-এ খরচ হয় প্রায় ৭১৯.৮৯ লক্ষ টাকা। ২০২৪-’২৫ এ খরচের পরিমাণ প্রায় ৭৫৯.৩৫ লক্ষ টাকা। তুলনামূলক ভালো চলছে আগের বিমানবন্দরগুলি। যেমন কানপুর, আগ্রা। বিমান শিল্পের সংশ্লিষ্ট লোকজনের অভিমত, উত্তরপ্রদেশের বিমান উড়ান ব্যবসায় দুটি ভিন্ন প্রবণতা রয়েছে। একদিকে ঢাকঢোল পিটিয়ে চালু করা নতুন বিমানবন্দর, যেগুলি বাণিজ্যিক অপারেশন, পরিষেবা চালাতে হিমশিম খায়। অপরদিকে কানপুর, আগ্রার মতো বিমানবন্দর যেখানে যাত্রীসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরের স্থান বাছাইয়ের আগে সেখানে যাত্রীসংখ্যা, চাহিদা কেমন হতে পারে, সে ব্যাপারে সঠিক মূল্যায়ন, পরিকল্পনা না হওয়ার ফলেই কুশিনগর-সহ বিমানবন্দরগুলি বেশিদিন চালানো সম্ভব হয়নি।
