মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সিঙ্গাপুর সফর বড় সাফল্য ছিনিয়ে আনল উত্তরপ্রদেশের জন্য। এবার রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের রূপরেখা বদলে দিতে সিঙ্গাপুরের সরকারি সংস্থা ‘সিঙ্গাপুর কোঅপারেশন এন্টারপ্রাইজ’ (এসএসিই)-এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত চুক্তি করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। লখনউয়ের পক্ষে এই মৌ স্বাক্ষর করেছে বিনিয়োগকারী সংস্থা ‘ইনভেস্ট ইউপি’। এই চুক্তির ফলে উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক কাঠামো থেকে শুরু করে নগর পরিকল্পনা— সব ক্ষেত্রেই সিঙ্গাপুরের আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগবে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতিতেই এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন হয়। স্থির হয়েছে, উত্তরপ্রদেশের শিল্পোন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং আধুনিক পরিকাঠামো তৈরিতে কারিগরি ও প্রশাসনিক পরামর্শ দেবে সিঙ্গাপুর। শুধু তাই নয়, রাজ্যের সরকারি আধিকারিক ও কর্মীদের পেশাদারি দক্ষতা বৃদ্ধিতেও প্রশিক্ষণ দেবে এই বিদেশি সংস্থা। দুই পক্ষের মধ্যে নলেজ শেয়ারিং বা জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের শিল্পতালুক ও লজিস্টিকস ক্ষেত্রকে বিশ্বমানের করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রকল্পগুলি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সেগুলিকে বাস্তবায়িত করার কাজ শুরু করে দেবে দুই সরকার। প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা আনা এবং নগরোন্নয়নে সিঙ্গাপুরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছে লখনউ। বিশেষ করে লজিস্টিকস এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর মডেলে সাজানো হবে উত্তরপ্রদেশকে। সরকারি ও বেসরকারি— উভয় স্তরের লগ্নিকারীদের উৎসাহিত করতে একযোগে কাজ করবে এসসিই ও ইনভেস্ট ইউপি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই চুক্তি উত্তরপ্রদেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করল। সিঙ্গাপুর সফরের এই পর্যায়টি লখনউয়ের জন্য কেবল আর্থিক বিনিয়োগ নয়, বরং প্রশাসনিক উৎকর্ষের চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এর ফলে উত্তরপ্রদেশের শিল্প পরিকাঠামো আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। যা বিদেশের বড় লগ্নিকারীদের উত্তরপ্রদেশে ব্যবসা শুরু করতে অনেক বেশি আকৃষ্ট করবে।
