আধার কার্ড যে এককভাবে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয়, সেটা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন কমিশন SIR-এও আধার কার্ড গ্রহণ করছে না। এবার মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট জানিয়ে দিল, আধার কার্ড জন্মেরও প্রমাণপত্র নয়। এমনকী ভোটার কার্ডকেও জন্মের প্রমাণপত্র হিসাবে গ্রহণ করা যায় না। এক্ষেত্রে একমাত্র গ্রহণযোগ্য নথি হল জন্মের সংশাপত্র।
মামলাটি মধ্যপ্রদেশের এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর করা। ধর জেলায় এক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী হিরলিবাই অবসর নেওয়ার পর ওই কেন্দ্রে প্রমিলা নামের এক মহিলাকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী হিসাবে নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু বছর দুয়েক বাদে আচমকা হিরলিবাই দাবি করেন, তাঁর বয়সের রেজিস্ট্রেশন ভুল ছিল। তাঁর অবসরের বয়স হয়নি। নিজের আধার ও ভোটার কার্ড দেখিয়ে চাকরি ফেরতের দাবি জানান তিনি। স্থানীয় আধিকারিকরা সেই নথি দেখে হিরলিবাইকে চাকরিতে পুনর্বহাল করেন। ফলে দু'বছর পর আচমকাম কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রমিকা। তিনিই মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।
তাঁর মামলার ভিত্তিতে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট জানিয়ে দিল, আধার কার্ড বা ভোটার কার্ডে স্বঘোষিত তথ্য থাকে। ফলে সেটা কোনওভাবেই জন্মের শংসাপত্র হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ওই নথিগুলি শুধুমাত্র পরিচয় বা শনাক্তকরণের কাজেই ব্যবহৃত হয়। কোনওভাবেই আধারের সঙ্গে জন্মের প্রমাণ জুড়ে দেওয়া যাবে না। জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসাবে কাজ করবে শুধুমাত্র জন্ম শংসাপত্রই। আদালত ওই পদ থেকে হিরলিবাইকে সরিয়ে প্রমিলাকে পুনর্বহাল করার নির্দেশ দিয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের ওই রায় আরও একবার আধার কার্ড তৈরির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। আগেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এটা যে ভোটাধিকারের প্রমাণ নয়, সেটাও জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার আদালত বলছে, জন্মের শংসাপত্র হিসাবেও কাজ করবে না আধার। তাহলে আধারের কাজটা কি? স্রেফ পরিচয়পত্র? সেটা তো অন্য যে কোনও নথিতেই হতে পারে।
