সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছাব্বিশের আগে বড় দায়িত্ব। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দেবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় অসুস্থ। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন অভিষেক। চিফ হুইপ পদে থাকবেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই।" এদিন রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে টুইট করেছেন। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাঁকে নির্বাচিত করায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ লোকসভার তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে পারছেন না তিনি। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুরের বৈঠকে লোকসভায় দলের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানান, রাজ্যসভার কাজ ঠিক হলেও লোকসভায় হচ্ছে না। এরপরই আপাতত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় দলনেতার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে জানান, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই চিপ হুইপ থাকবেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পরই জানা যায়, চিফ হুইপ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে অভিষেককে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, "অভিষেক দক্ষ সাংসদ, আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। উনি দক্ষতা ও সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন সংসদের ভিতরে ও বাইরে। দুরন্ত বক্তা। হিন্দি, বাংলা, ইংরেজিতে কথা বলেন। পহেলগাঁও টিম-এর সফলতম সংসদ উনি।" কুণাল ঘোষের কথায়, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাঁকে দলনেতা করার সিদ্ধান্ত সঠিক ও সময়োপযোগী। এই সিদ্ধান্ত বিজেপির জন্য আতঙ্কের হয়ে দাঁড়াবে।"
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "দলের সভানেত্রী দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের আমার সহকর্মী সাংসদরা আমাকে লোকসভায় আমাদের সংসদীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করার জন্য আমার উপর যে আস্থা রেখেছেন, তাতে আমি গভীরভাবে সম্মানিত। পূর্ণ প্রতিশ্রুতির সঙ্গে আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করছি। সংসদে তৃণমূলের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী এবং অটল রাখার জন্য আমার সকল সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। কেন্দ্রীয় সরকারের একনায়কতন্ত্র প্রতিহত করব এবং আমাদের সংবিধানের মূল মূল্যবোধ-ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য এবং ভ্রাতৃত্ব রক্ষা করব।"
