আদালতে শুনানি চলছে। জোর সওয়াল-জবাব চলছে বাদী-বিবাদীর মধ্যে। এহেন গুরুগম্ভীর পরিস্থিতিতে আচমকাই দেখা গেল, প্রত্যেকের সামনে থাকা ল্যাপটপে চলছে পর্ন ভিডিও। অস্বস্তিকর ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লি হাই কোর্টে। এহেন অস্বস্তিকর কাণ্ডের পরই পুরোপুরি শুনানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুরু হয়েছে ঘটনার তদন্ত।
বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চে চলছিল ভারচুয়াল শুনানি। জানা গিয়েছে, শ্রীধর সরবানোত এবং শিতীজিৎ সিংয়ের মামলার শুনানি চলছিল। আচমকাই স্ক্রিনজুড়ে অশ্লীল ভিডিও চলতে শুরু করে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, মামলাকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকেই চালানো হয়েছিল এই পর্ন ভিডিও। সঙ্গে সঙ্গে ভারচুয়াল শুনানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ দায়ের হয় দিল্লি পুলিশে। শুরু হয়েছে তদন্তও।
দিল্লি পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের জেরায় শিতীজিত জানান, তাঁর অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে। সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে হ্যাক করা হয়েছে অ্যাকাউন্টটি। শুনানির সময় হঠাৎ অশ্লীল ভিডিও চালু হল কীভাবে, সেই নিয়ে শিতীজিত কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। আপাতত তাঁর সেই দাবি মেনে নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন জানা যায়, কেবল প্রধান বিচারপতির এজলাস নয়, আরও বেশ কয়েকটি এজলাসেও ভারচুয়াল শুনানি চলাকালীন স্ক্রিনে ভেসে ওঠে পর্ন ভিডিও। গোটা ঘটনাক্রম নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ভিডিও যারা দেখাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, মাসছয়েক আগে পর্নোগ্রাফি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবিতে মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। মামলাকারী আর্জি জানান, পর্নোগ্রাফি দেখায় নিষেধাজ্ঞা জারি করতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি জাতীয় নীতি তৈরি করুক। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্করা যাতে করে পর্নোগ্রাফি না দেখে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রকাশ্যে পর্নোগ্রাফি দেখায় নিষেধাজ্ঞা জারির আবদারও জানান তিনি। কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি শীর্ষ আদালত। তারপরে আদালতে শুনানি চলাকালীন আচমকাই ছড়িয়ে পড়ল অশ্লীল ভিডিও।
