যানজটে নাকাল দিল্লি। বৃহস্পতিবার কার্যত থমকেই গিয়েছিল রাজধানী শহর। যার জেরে ঠিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছোতেই পারেননি বিচারপতি এবং আইনজীবীরা। প্রধান বিচারপতির এজলাসেই আধ ঘণ্টা দেরিতে শুনানি শুরু হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, দিল্লিতে আয়োজিত AI সম্মেলনে যেতে দেরি হয়েছে ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা ইনফোসিস প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণমূর্তির জামাই ঋষি সুনকেরও। পরে সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই তাঁর রসসিক্ত মন্তব্য, ‘‘AI অনেক কিছুই পারে, কিন্তু দিল্লির ট্রাফিককে শুধরোতে পারে না।’’
সোমবার থেকে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুষ্ঠান থাকায় সম্মেলনে ঢোকার জন্য অতিথিদের দু’-তিন ঘণ্টা রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়েছিল। গতকাল ভারত মণ্ডপমে ছিল বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজ। তার জন্য দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সভাস্থলের কাছে ট্যাক্সি বা অন্য গাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভারত মণ্ডপমের কাছে মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বুধবার রাত থেকে সম্মেলন থেকে বেরিয়ে বিদেশি অতিথি, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে দেশের উদ্যোগপতিদের রাস্তায় তিন-চার কিলোমিটার হাঁটতে হয়। নয়াদিল্লি জুড়ে যানজট তৈরি হওয়ায় বহু মানুষ দু’তিন ঘণ্টা গাড়িতে আটকে ছিলেন। অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েন।
কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি থেকে তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, দিল্লিতে এখন ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকার চলছে। কেন্দ্র, রাজ্য, পুরসভা, সর্বত্র বিজেপি। দিল্লির পুলিশ অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন। তারপরেও এই অব্যবস্থা কেন? কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরার কটাক্ষ, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানকে কোলাকুলি করা, ছবি তোলার উৎসবে পরিণত করে ফেলা হয়। এআই সম্মেলন উদ্ভাবন নিয়ে চিন্তাভাবনার আদানপ্রদানের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারত। তার বদলে রোবট-কুকুর বা ড্রোনের মতো সস্তার চিনা পণ্যের বাজার হয়ে গেল।’’
