৩ দিন পেরিয়ে গিয়েছে, অথচ এখনও পর্যন্ত বালোচ বিদ্রোহীদের দ্বারা পণবন্দি সেনাদের উদ্ধারের বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেছি পাকিস্তান সরকার। গুরুতর এই পরিস্থিতির মাঝেই এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর ভিডিও। যেখানে বন্দি পাক সেনাদের তরফে সরকারের কাছে কাতর আর্জি জানানো হচ্ছে, অবিলম্বে আমাদের মুক্ত করুন। বালোচদের তরফে প্রকাশিত সেই ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হতে শুরু করেছে।
জানা যাচ্ছে, বালোচিস্তানের ইন্ডিপেন্ডেন্ট অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'বালোচিস্তান পোস্টের' তরফে সোশাল মিডিয়ায় এই ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, সেনার পোশাক পরা বেশ কয়েকজন যুবক হাঁটু গেড়ে বসে রয়েছে। তাঁদের হাতে রয়েছে সেনার পরিচয়পত্র। ভিডিওতে পাকিস্তানি আধিকারিকদের কাছে মুক্তির জন্য কাতর আর্জি জানাচ্ছেন তাঁরা। যদিও সূত্রের খবর, ওই পণবন্দিদের সেনা সদস্য হিসেবে মানতে অস্বীকার করেছে পাকসেনা ও সরকার।
পাক সেনার হাতে বন্দি বালোচ যোদ্ধাদের মুক্তির বিনিময়ে এই ৭ জনকে মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল বালোচ লিবারেশন আর্মি। ৭ দিনের সময়সীমা দিয়ে বলা হয়েছিল, যদি পাকিস্তান বন্দি বিনিময় না করে সেক্ষেত্রে এই অপরাধীদের সাজা কার্যকর হবে।
এই পরিস্থিতিতে বন্দিদের একজন জানিয়েছেন, তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। এবং সরকারি পরিচয়পত্র দিয়ে এখানে পাঠানো হয়েছিল। তাহলে কেন পাক সরকার তাঁদের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে! এই সৈনিক প্রশ্ন তোলেন, 'পাকিস্তান সেনা কীভাবে বলতে পারে যে আমরা তাদের সদস্য নই? তবে এটি কার পরিচয়পত্র?' নিজের পরিচয়পত্র সামনে এনে ওই সেনা জওয়ান বলেন, 'এটা সেনার পরিচয়পত্র নয়?' এরপর তিনি বলেন, 'ঈশ্বরের দোহাই, আমার বাবা অসুস্থ এবং আমি পরিবারের বড় সন্তান। এভাবে আমাদের ছুড়ে ফেলে দেওয়ার মতো অন্যায় করো না।'
উল্লেখ্য, ‘অপারেশন হেরফ’-এর অধীনে সম্প্রতি ১৭ জন পাক জওয়ানকে বন্দি করেছিল বালোচরা। এদের মধ্যে ১০ জন ছিল জাতিগতভাবে বালোচ সম্প্রদায়ের। এই ১০ জনকে মুক্তি দেওয়ার পর বর্তমানে ৭ জওয়ান বন্দি রয়েছেন তাঁদের হাতে। বালোচদের আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ ও গণহত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি পাক সেনার হাতে বন্দি বালোচ যোদ্ধাদের মুক্তির বিনিময়ে এই ৭ জনকে মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। ৭ দিনের সময়সীমা দিয়ে বলা হয়েছে, যদি পাকিস্তান বন্দি বিনিময় না করে সেক্ষেত্রে এই অপরাধীদের সাজা কার্যকর হবে। তবে সূত্রের খবর, ওই ৭ জনকে সেনা সদস্য হিসেবে মানতে অস্বীকার করেছে পাকিস্তান।
