দিল্লির এআই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে যুব কংগ্রেস কর্মীদের অর্ধনগ্ন প্রতিবাদ নিয়ে তুঙ্গে টানাপোড়েন। ওই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তিন যুব কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে বেনজিরভাবে হিমাচলপ্রদেশ পুলিশের বাধার সম্মুখীন দিল্লি পুলিশ। এমনকী, এর জেরে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা রুজু করে ২০ জন পুলিশকর্মীকে আটক করেছে শিমলা পুলিশ।
এআই সম্মেলনে অর্ধনগ্ন হয়ে প্রতিবাদ করার অভিযোগে বুধবার আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু সেই গ্রেপ্তারি নিয়ে বেনজির সংঘাত কংগ্রেস শাসিত হিমাচলপ্রদেশ পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নিয়ন্ত্রিত দিল্লি পুলিশের। হিমাচলপ্রদেশ পুলিশের অভিযোগ, কোনওরকম আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে বিনা অনুমতিতে ওই ৩ জনকে শিমলা থেকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল দিল্লি পুলিশ। ওই গ্রেপ্তারি আটকাতে বেনজিরভাবে দিল্লি পুলিশের ৩টি গাড়ি আটকে দেয় হিমাচল পুলিশ। এমনকী ২০ জন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করে তাদের আটক করা হয়েছে। আবার দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, অপরাধীদের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়াতে চাইছে শিমলা পুলিশ।
বুধবার দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল হিমাচলের রোহরু থেকে সৌরভ, সিদ্ধার্থ এবং আরবাজ নামের তিন কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, ধৃতদের নিয়ে দিল্লি ফেরার সময় শিমলা পুলিশ শোগি সীমান্তে তাদের গাড়ি আটকে দেয়। শিমলা পুলিশের অভিযোগ, কোনও নিয়ম না মেনে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন না করেই ওই ৩ কর্মীকে হিমাচল থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাই ওই গাড়িগুলিকে আটক করে শিমলা পাঠানো হয়েছে। পালটা দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, শিমলা পুলিশ তাদের তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। যা একপ্রকার বেনজির সাংবিধানিক সংকট।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার দুপুরে। দিল্লির ভারতমণ্ডপমে এআই সম্মেলন (AI Summit) চলাকালীন ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় অর্ধনগ্ন হয়ে প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করেন কয়েকজন। ‘নরেন্দ্র মোদি কমপ্রোমাইজড’ লেখা টি-শার্ট খুলে আদুড় গায়েই বিক্ষোভ চলে। সম্মেলনে উপস্থিত আমজনতার একাংশ এর প্রতিবাদ জানালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে। জানা যায়, তাঁরা কোনওভাবে সম্মেলনের পাস জোগাড় করে সেখানে ঢুকে পড়ে এবং বিক্ষোভ দেখায়। পরেরদিনই দিল্লি পুলিশ দাবি করে, যুব কংগ্রেস কর্মীদের এহেন প্রতিবাদের নেপথ্যে বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে। নেপালে সরকার পতনের মূলে থাকা জেন জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তাঁদের এমন কাজ।
