প্রবল ঝাঁকুনি দিয়ে একধাক্কায় তিনশো ফুট নেমে এসেছিল বিমান। টাল সামলাতে না পেরে আহত হন অন্তত ১৫ যাত্রী। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা। কিন্তু তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট। জানা গিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের পাইলট ডোপ টেস্টে ফেল করেছেন। অর্থাৎ বিমান চালানোর সময় এমন ওষুধ খেয়েছিলেন যা নিষিদ্ধ।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৪ আগস্ট। মঙ্গলবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এআই২৩৭৯ উড়ানটি (Air India Phuket-Delhi Flight)। থাইল্যান্ডের শহর ফুকেট থেকে আসছিল সেটি। দিল্লি নামার কিছুটা সময় আগে আচমকা সজোরে ঝাঁকুনি। প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায় বিমানটি। এর জেরে ১১ জন যাত্রী ও ৪ জন বিমানকর্মী আহত হন। যদিও এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, কারও বড়সড় আঘাত লাগেনি। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবি, ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, তীব্র ঝাঁকুনির কারণেই এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একাধিক জায়গায় ফাটল দেখা গিয়েছে।
গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। সেখানেই জানা যায় বিস্ফোরক তথ্য। যদিও সরকারিভাবে এখনও এই নিয়ে মুখ খোলেনি এয়ার ইন্ডিয়া। তবে উড়ান সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমানে থাকা দুই পাইলটের শারীরিক পরীক্ষা হয়েছে দিল্লিতে। সাধারণত প্রত্যেক পাইলটকেই এইভাবে ডোপ পরীক্ষা দিতে হয়। সেসময়েই ধরা পড়ে দুই পাইলটের মধ্যে একজন ডোপ পরীক্ষায় ব্যর্থ। তবে এই রিপোর্ট এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। তদন্তপ্রক্রিয়া চালাচ্ছে ডিজিসিএ।
সূত্রের খবর, দুই পাইলটকে আপাতত বিমান চালানোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যে ঘটনাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে মনে করা হচ্ছিল, তার নেপথ্যে অন্য কারণ থাকতে পারে কি? ডোপ রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে চর্চা। উল্লেখ্য, আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ভেঙে পড়ার পর থেকে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে পাইলটদের ভূমিকা নিয়ে। সেই তত্ত্বে আরও মশলা জোগাল ফুকেত থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান, এমনটাই মনে করা যায়।
