সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনতে এবং তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধানে আবারও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেল উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে (Yogi Adityanath)। গোরক্ষপুর সফরকালে শুক্রবার সকালে গোরক্ষনাথ মন্দির চত্বরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ‘জনতা দর্শন’ কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। সেখানে উপস্থিত প্রায় ২০০ জন মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রত্যেকের অভাব-অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন তিনি। পাশাপাশি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনস্বার্থের প্রশ্নে কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনের কর্তাদের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ, প্রতিটি অভিযোগ খুঁতিয়ে দেখে নিষ্পত্তি করতে হবে।
শুক্রবার সকালে মহন্ত দিগ্বিজয়নাথ স্মৃতি ভবনের বাইরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে যোগী নিজে আবেদনকারীদের কাছে যান। তাঁদের প্রত্যেকের হাতে থাকা নথিপত্র সংগ্রহ করেন এবং তা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের হাতে তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “আপনারা দুশ্চিন্তা করবেন না। প্রত্যেকটি সমস্যার কার্যকরী সমাধান করবে সরকার।” পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের তিনি কড়া ভাষায় নির্দেশ দেন যে, প্রতিটি অভিযোগের তদন্ত যেন নিরপেক্ষ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা হয়। মানুষের সন্তুষ্টিই যেন হয় কাজের মূল মাপকাঠি।
এদিনের দরবারে অনেক অসহায় মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানান। তাঁদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ হবে না। সরকারি খরচে চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করা হবে। প্রশাসনের তরফে দ্রুত খরচের হিসাব তৈরি করে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বেশ কিছু মহিলা মাথার উপর ছাদ না থাকার কথা জানালে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের প্রধানমন্ত্রীর আবাসন বা মুখ্যমন্ত্রী আবাসন প্রকল্পের আওতায় বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যোগ্য অথচ গৃহহীন ব্যক্তিদের তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন তিনি। অভাবী ও বঞ্চিত শ্রেণির পাশে দাঁড়াতে তাঁর সরকার যে বদ্ধপরিকর, এদিনের কর্মসূচির মাধ্যমে সেই বার্তাই দিলেন যোগী আদিত্যনাথ। জনতা দরশনের এই তৎপরতা স্থানীয় প্রশাসনের ওপর যেমন চাপ সৃষ্টি করেছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মনে ভরসা জোগাচ্ছে।
