সামর্থ্য না থাকলে বিয়ে করা উচিত নয়। এক খোরপোশের মামলায় অভিযুক্ত স্বামীকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। আদালতের বক্তব্য, যদি কোনও ব্যক্তির মনে হয়, যে বিয়ের পর সম্পর্ক খারাপ হলে স্ত্রী-সন্তানকে খোরপোশ দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না, তাহলে তাঁর বিয়ে না করাই উচিত।
মূল মামলাটি প্রয়াগরাজের। তেজ বাহাদুর মৌর্য নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের জন্য পরিবার আদালতের নির্ধারিত মাসিক ৪ হাজার টাকা খোরপোশ দিতে অস্বীকার করছেন। অভিযুক্ত ওই যুবকের দাবি, তাঁর আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। মাসিক চার হাজার টাকা খোরপোশ মেটানো তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। পরিবার আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ওই অভিযুক্ত যুবক এলাহাবাদ হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন। তাঁর দাবি, আর্থিক অসঙ্গতির কারণে স্ত্রীকে খোরপোশ দেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া তাঁর স্ত্রী অন্য ব্যক্তির সঙ্গে সহবাস করছেন।
এলাহাবাদ হাই কোর্টে নিজের দ্বিতীয় অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ ওই যুবক দেখাতে পারেননি। অর্থাৎ স্ত্রী যে অন্য সম্পর্কে সেটা প্রমাণ করতে পারেননি। বিচারপতি অতুল শ্রীধরন এবং বিচারপতি বিবেক সারনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, মাসে ৪ হাজার টাকা খোরপোশ কোনওভাবেই অত্যধিক নয় এবং এটি স্বামীর সামর্থ্যের বাইরেও হতে পারে না। অভিযোগকারী মহিলা আদালতকে জানান, তিনি খুব একটা শিক্ষিত নন এবং তাঁর আয়ের কোনও স্থায়ী উৎস নেই। সন্তানদের দেখাশোনা তিনি একাই করছেন।
সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আদালত সাফ বলে দিল, এক জন পুরুষ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর অভাবের দোহাই দিয়ে স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। স্ত্রীর ভরণপোষণ কোনও দয়া নয়, বরং স্বামীর আইনি বাধ্যবাধকতা। যদি কারও মনে হয় আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাঁর বিয় করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
